আবু বকর চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: সাংবাদিক আবু বকর চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার। গত বছরের ১৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার ভোর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। ধানমণ্ডির বাসার পাশের মসজিদে ও জাতীয় প্রেস ক্লাবে দুইদফা জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ওইদিন বিকেলে আবু বকর চৌধুরীর মরদেহ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সবশেষ তিনি দৈনিক মানবকণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। এরআগে ১৯৯১ সালে ‘সাপ্তাহিক প্রত্যয়ন’ পত্রিকায় নির্বাহী সম্পাদক পদে যোগদানের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি।

এর পর তিনি ‘সাপ্তাহিক খবর’-এর নির্বাহী সম্পাদক, ১৯৯৫ সালে ‘আজকের কাগজ’-এ সহযোগী সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন। একসময় আজকের কাগজ বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে ‘আমাদের সময়’ পত্রিকায় যোগ দেন।

ওই বছরের অক্টোবরে তিনি ‘সকালের খবর’-এ বার্তা সম্পাদক ও ২০১১-এর এপ্রিলে ‘সমকাল’ পত্রিকায় বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।

২০১২ সালে তিনি বার্তা সম্পাদক হিসেবে ‘দৈনিক মানবকণ্ঠ’-এ যোগদান করেন। এর পর ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ পর্যন্ত তিনি পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদকের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করে আসছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক হন। পরে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে পুনরায় তিনি দৈনিক মানবকণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত মৃত্যু বরণ করেন বরেণ্য এই সাংবাদিক। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় তার ‍সৃজনশীল ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।

কর্মজীবনে তিনি ছিলেন নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার এক অগ্রদূত। এছাড়াও সামাজিক বৈষম্য, নিপীড়িত মানুষের পক্ষে তার কলম ছিলো সোচ্চার। সাংবাদিকতায় নিজের সৃজনশীলতা ও রুচিবোধের চর্চা বরাবরই অনুজদের আকর্ষণ করেছে।

১৯৬৪ সালের ২১ জুন ময়মনসিংহ শহরে আবু বকর চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু তার পৈত্রিক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানায়। চাকরিসূত্রে তার বাবা ময়মনসিংহে থাকতেন। এরপর আবুবকর চৌধুরীর বাবা বদলি হয়ে ঢাকা চলে আসলে গ্রিনরোড স্টাফকোয়ার্টারে বেড়ে ওঠেন তিনি। বাবা আবদুল হালিম চৌধুরী ও মা রাজিয়া খাতুন। ৯ ভাইবোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ম্যানেজমেন্টে অনার্সসহ স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১০ সালের ১ অক্টোবর দিল আফরোজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।