এক শহুরে বীজনে তুমি

এক শহুরে বীজনে তুমি
-সহন রুদ্র

তোর কথা মনে হলেই-
এ শহরের অতিকায় বিশাল
ইট পাথরের প্রাসাদ হয়ে উঠে,
জীবন্ত পাহাড়ের এক একটা ইকো চেম্বার।

খিলখিলিয়ে উঠে কাঁচের শরীর,
কত যে নাম না জানা বুনো ফুলের হাসিতে।

আঁচড়ে পড়া প্রস্রবণের বুক ছেঁড়া নিম্নগামী ধারায়,
জন্ম নেয় প্রশান্তির ঘেরা জলীয় বাস্প রুপ।
পূর্ণ করি নিজেকে, তোর নির্মল হাসিগুলোতে, সেই রুপে।

তোর কথা মনে হলেই-
এ শহরের কাঁচা বাজারের বিস্তর আয়তন হয়ে উঠে,
তাজা শিশিরের এক একটা কুঞ্জবন।

মোটা চামড়ার মানুষ গুলোর সিন্ডিকেটের চিৎকার যেন
অমৃত সুরে মাতিয়ে তুলে শ্রবনের ছিদ্র।
আজ ফুলের দিবস, আজ প্রাণের দিবস
পচা আবর্জনার পিষ্ট পথ, হয়ে উঠে বসন্তের গালিচা।

জন্ম নেয়, আবার প্রথম দেখার সেই স্মৃতির প্রতিরুপ,
স্থির করি নিজেকে, তোর সেদিনের কাঁচা শরীরের গন্ধে।

তোর কথ মনে হলেই-
এই শহরের ক্ষমতা চাহি রাজপথের উত্তপ্ত ভিড়,
হয়ে উঠে জীবনানন্দের ফিরে আসার মুখরিত উৎসব।
সরল মনের ভ্রান্ত মিছিল ভেঙ্গে,
নগ্ন পায়ের হিমুর দল ছড়িয়ে পড়ে এই নন্দিত নরকে।

আবার রুদ্রময় ভালোবাসায় মেতে উঠে
প্রতিটা বিষের শরীর।
জন্ম নেয়, সেদিনের লোহিত সাঁঝের অভিমানী গল্পটা।
সাহসী করি নিজেকে, সেই ভাঁজ করা চিঠির মোটা অক্ষরে।

তোর কথা মনে হলেই-
এই শহরের চার দেয়ালের সিলিং ছোঁয়া কষ্টরা,
হয়ে উঠে প্রথম স্পর্শের বালিকা বঁধুর বাসর।
খাঁচা সদৃশ বারান্দার ইজি চেয়ারের অমোঘ ক্লান্তি,
হয়ে উঠে কলমের আঁচর, যত গল্প আর কবিতায়।

জন্ম নেয়, তোর সেদিনের আবেগি অধর, উষ্ণ ভাঁজ, কি যে লাজ,
আহা, উন্মাদ করি নিজেকে তোর দেয়া
এই পাঁজরের লাল দাগে।