তীব্র যানজটে স্থবির রাজধানী

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানীর ঢাকার জনজীবন। প্রতিদিন ঢাকায় নতুন করে আসছেন কর্মমুখী কয়েক হাজার মানুষ। দিন দিন চাপ বাড়ছে এই মেগাসিটির। সেই তুলনায় বাড়ছে না রাস্তাঘাট। এর ফলেই যানজট যেন নিত্যসঙ্গী। কিন্তু ধারাবাহিক যানজটের এই শহরে বৃহস্পতিবার রীতিমতো স্থবির হয়ে পড়ে চারশ’ বছরের পুরনো এ নগরী।

রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে তৈরি হয় তীব্র যানজট। শ্যামলীর ডায়নামিক গার্মেন্টের শ্রমিকরা বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে রাস্তা অবরোধ করার পর থেকেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর পুলিশ তাদের সরিয়ে দিলেও সড়কগুলোতে তৈরি হয় তীব্র যানজট। সেই যানজটের ধকল রাত পর্যন্ত পোহাতে হয়েছে সারা নগরজুড়ে।

এর সঙ্গে সিটি নির্বাচন পেছানোর দাবিতে দুদিন ধরে চলা শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও শাহবাগ মোড় অবরুদ্ধ হয়েও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সরস্বতী পূজার দিনে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই অনশন শুরু করেন তারা। এর ওপর চলতি সপ্তাহে বিশ্ব ইজতেমার একসঙ্গে লাখ লাখ মুসল্লির আগমনের কারণেও যানজট দেখা দেয়। এ ছাড়া মাসব্যাপী শুরু হওয়া ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, রাজধানীর উত্তর এবং দক্ষিণ সিটিতে পাড়ায় পাড়ায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের জন্য সড়ক সংকুচিত হওয়া এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

প্রতিদিন সড়কে নামছে নতুন নতুন যানবাহন, সেই অনুপাতে সড়ক বাড়ছে না, উল্টো বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের খোঁড়াখুঁড়িতে সংকুচিত হচ্ছে। এর ওপর মাঝেমধ্যে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের বিক্ষোভ মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও ঢাকাবাসীকে নাকাল হতে হয়।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনা বিভাগ জানায়, নগরীতে মোট আয়তনের ২৫ ভাগ রাস্তা থাকা প্রয়োজন। সেখানে ঢাকায় আছে মাত্র সাত থেকে আট ভাগ। এই সাত-আট ভাগেও পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। রাস্তার ওপর বাজার, অবৈধ পার্কিংয়ে রাস্তার শতভাগ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে পরিবহন জট।

রাজধানীতে ধারণক্ষমতার থেকে বেশি মানুষ বাস করে। অবকাঠামোর তুলনায় অতিরিক্ত গাড়ি। এমনিতে রাস্তার আয়তন কম, তার ওপর অবৈধ পার্কিং। এসব কারণে দিন দিন যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এদিকে রাজধানীর শ্যামলীতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় মূল সড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকরা।

এরপরই পাল্টে যেতে থাকে সড়কের চিত্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঐানজটের তীব্রতা বাড়ে। একপর্যায়ে মিরপুর রোডের জ্যাম গিয়ে ঠেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত।

এ ছাড়া কারওয়ান বাজার থেকে মহাখালী পর্যন্ত রীতিমতো ব্লক হয়ে যায়। এর ফলে পুরান ঢাকার সদরঘাট, জনসন রোড, নবাবপুর, বংশাল, নয়াবাজার, বাবুবাজার, গুলিস্তান, লালবাগ, আজিমপুর, মালিবাগ, খিলগাঁও, রামপুরা, বাড্ডা, গুলশান, বনানীর সড়কও স্থবির হয়ে যায়। এতে করে অ্যাম্বুলেন্সগুলো আটকা পড়ে রোগীদের সমস্যায় পড়তে হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক বিভাগ) মফিজউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই যানজট থাকেই। তবে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্যামলীর শ্রমিকদের অবরোধের জের।