নিবেদিতা মজুমদারের ত্রয়ী কবিতা

১. স্পর্শ

জমানো অনিয়ম বেনিয়ম
খোলামকুচির মত উড়ে বেড়ায়-
খোলামুঠির আবেগবন্ধে

এক পশলা বৃষ্টির মতো
এক ঝাঁক টিয়ের সান্ধ্য ঘরে ফেরার মতো
বারবার ফিরে ফিরে আসিস তুই
আমি হাত বাড়িয়ে ছুঁই প্রতিবার!

সে স্পর্শে শরীর জাগে না
জাগে চেতনার হাওয়া‚
কোন এক আধপোঁড়া রুটির আদলে
একসাথে পা মিলিয়ে হাঁটার প্রতিশ্রুতি বলয়-
দুর্দিনের খাতা কলম আঁকরে বাঁচার

আশ্চর্য তোর ফেরার অভিযান-
পিঠে দেয়াল ঠেকিয়েও ফুল ভালোবাসি
আক্রমণ ঘাত-প্রতিঘাতের দামামা জুড়ে
আসমানী রং উপচে পড়ে শুকনো রক্তে,
ঘন কুয়াশায় শাড়ির আঁচলে
এক চিলতে মিষ্টি আশার গন্ধ লেগে থাকে!

২. আকাশ

মামনি দেখ একটা মাঠ এঁকেছি
মাঠে কত্ত বন্ধুরা খেলা করছে-
কত রঙ, কত বড় আকাশ!
আকাশের রঙ কে বলে আকাশী-
আকাশী রঙ কোনটা মামণি?
-আন্টির হোমওয়ার্ক টা শেষ হয়েছে তোমার সোনা?
লক্ষ্মী- ওকে আজ একটু তাড়াতাড়ি ঘুম পাড়াস,
সোনা টাটা-
এ কদম দুষ্টু করবে না-
দরজা আটকে দে
ওকে দেখিস, লাঞ্চে ফোন করব|

হ্যালো বাপি-
জানো, আমি একটা আকাশ এঁকেছি
তাতে কত পাখি-
কি রঙ দেব ওদের ডানায়?
-যা মন চায় বাবাই
আজ ফিরে তোমার সাথে সুডোকু খেলব,
লক্ষ্মী, বৌদি ফিরলে বলিস রাত হবে
ওর নেটওয়ার্ক নেই,
বাই, বাবাই সোনা|

এই দেখ লক্ষ্মী দিদি
একটা নদী তাতে নৌকো-
-ইস্ সব রঙপেন্সিল গুলো আবার ছড়িয়েছ বাবু
কতবার গুছিয়ে রাখি বল দেখি!
অনেক হলো এবার খেয়ে ঘুমোও!
-জলের রঙ কি দেব?
ওমা জলের আবার রঙ কিগো!
যা রঙ লাগাবে তাই হয়ে যাবে
ঠিক তোমার মত |

লক্ষ্মী, এতো অগোছালো ঘর
সারা ঘরে রঙপেন্সিল ছড়ানো!

ওকে ঘুমোলে মনে হয় খুব চট্কাই,
-বৌদি বাবুকে একটু মাঠে নিয়ে যাব কাল থেকে?
-না রে সময় কোথায়
কম্পুটার ক্লাসটা ইম্পরটেন্ট
এই যা, এটা কি?
ও -একটা অগোছালো মাঠের ছবি,
আকাশ পাখি-
একটা ছোট ছেলে তার দুহাতে একটা বাক্স
ওমা এতে নানা রঙের পেন্সিল!
কিন্তু আকাশের রঙটা বড্ড ফিকে!

৩. লগ্নভ্রষ্টা

নহবতে সাজানো আশাবরী,
প্রতিটা রাত তীব্র চিত্কার শুনেছে
সেই সামিয়ানা আলোর অপেক্ষার অবশেষে।

রক্তাক্ত তসরের পাঞ্জাবিটা
আজো রাতের ঘুম চমকে দেয়!

মেহেন্দী মাখা হাত
শেলাই বুননে পারদর্শিতা দেখিয়ে
অপয়া নাম খণ্ডন করছে-
তবু রক্তের দাগ গভীরে বিষ এঁকে যায়
অহরহ।