সৌদি থেকে ফিরলেন দেড় হাজার প্রবাসী

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: প্রবাসীরা আমাদের দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখছেন। অনেক কষ্ট সহ্য করে দেশের বাড়িতে স্বজনের জন্যে কষ্টার্জিত অর্থ পাঠিয়ে রেমিটেন্সের প্রবাহ ধরে রাখছেন। তবে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়ায় ফিরতে শুরু করেছেন বাংলাদেশিরা।

মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব থেকে ১০৯ বাংলাদেশিকে নিঃস্ব হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে বৃহস্পতিবার। রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৪ ফ্লাইটে তারা দেশে ফেরেন। এ নিয়ে এ বছরের ১৬ দিনে এক হাজার ৬১০ বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফিরলেন। বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ফেরত আসা সিলেট জেলার তালেব (৩০) মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। রাতেই তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাঁচ বছর আগে শ্রমিক হিসাবে সৌদি যান তালেব। কিন্তু গত দুই মাস আগে সেখানে মানসিক ভারসাম্য হারান তিনি।

নোয়াখালী জেলার আজিম হোসেন মাত্র দুই মাস আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। পাসপোর্টে তিন মাসের ভিসা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি বলেন, বাজার করতে মার্কেটে যাওয়ার সময় পুলিশ আটক করে। আটকের সময় পুলিশের সঙ্গে নিয়োগকর্তার কথা বলার পরেও তাকে দেশে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লা জেলার ফিরোজ হোসেন, মুন্সিগঞ্জের রুহুল আমিন ও মানিক, শরিয়তপুরের মিলন, যশোরের মোসলেম উদ্দিন, বগুড়ার মেহেদি হাসান, গাজীপুরের রাজিবসহ ১০৯ বাংলাদেশির বেশিরভাগেরই এমন অবস্থা। দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া শ্রমিকদের অভিযোগ, আকামা তৈরির জন্য নিয়োগ কর্তাকে টাকা দিলেও আকামা করে দেয়নি।

পুলিশ গ্রেপ্তারের পর নিয়োগ কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কর্মীর দায় নিচ্ছে না। বরাবরের মতো বৃহস্পতিবারও ফেরত আসা কর্মীদের মাঝে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগীতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে জরুরি সহায়তা দেয়া হয়।

ফেরত আসাদের পরিসংখ্যান দিয়ে ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, ২০১৯ সালের ২৫ হাজার ৭৮৯ বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

চলতি বছর শুরুর ১৬ দিনে এক হাজার ৬১০ বাংলাদেশি সৌদি থেকে ফিরতে বাধ্য হলেন। তাদের প্রায় সবাই খালি হাতে ফিরেছেন। কয়েকমাস আগে গিয়েছিলেন এমন লোকও আছেন। তারা সবাই ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশায় ভুগছেন।

এভাবে যেন কাউকে শূন্য হাতে ফিরতে না হয় সেজন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব নিতে হবে। দূতাবাস ও সরকারকেও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত বলে জানান শরিফুল হাসান।