সিরাজদিখানে কাঠের সাঁকো ভেঙে জনদুর্ভোগ

সালাহউদ্দিন সালমান, সিরাজদিখান
সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ধলেশ্বরী নদীর উপর ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন কাঠের সাঁকোটিও ৪ মাস ধরে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে আছে। পাকা সেতুর অভাবে নড়বড়ে এই কাঠের সাঁকো দিয়েই পারাপার হয় হাজারো মানুষ। কিন্ত বর্ষা মৌসুমে সেতুটি একেবারে ভেঙে গেলে কেউ আর খোঁজখবর নেয়নি বলে অভিযোগে জানান স্থানীয়রা।

বালুচর ইউনিয়নের পূর্ব চান্দের চর, মধ্য চন্দের চর, চর পানিয়া সহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জ ও স্কুল-কলেজে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করেন।

অনেক পুরাতন এই কাঠের সাঁকোটিই ছিল হাজারো মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা। তবে সাঁকোটি চার মাস ধরে একেবারে ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে আছেন এখানকার মানুষজন।

ঢাকা মাওয়া মহাসড়ক থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরের এই এলাকাগুলোর মানুষের কাছে উন্নয়নের স্বপ্ন এখনো যেন সোনারহরিণ।

প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ এই কাঠের সাঁকো দিয়ে পায়ে হেঁটে স্কুল কলেজ হাট-বাজারে যাওয়া আসা করতো হাজারো মানুষ।

কৃষি নির্ভর এলাকায় সাঁকোটি একেবারে ভেঙে যাওয়ায় সবচাইতে বেশি ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন এখানকার কৃষকরা।

বছরের পর বছর চরম ভোগান্তি সত্বেও এই একটি কাঠের সাঁকোতেই যাতায়াতের ভরসা ছিল হাজারো মানুষের। কিন্তু সেটাও বিগত কয়েকমাস ধরে ভেঙে যাওয়ায় এখানকার গ্রাম এলাকার হাজারো মানুষের প্রাণের দাবি এখন এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করে দেয়ার।

কলেজ পড়ুয়া ছাত্র মো. রাসেলসহ আরো কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা আমাদের কাছে আসেন ভোট নিতে।

অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেন আমাদের যাতায়াতের পথে ব্রিজ নির্মাণ করে দেয়ার। কিন্তু নির্বাচনের পর কেউ আর গ্রামবাসীদের খোঁজ-খবর নেন না। আমাদের এই কাঠের সাঁকো ভেঙে আছে প্রায় চারমাস ধরে এইটাই কারো নজরে পরেনি।

বালুচর ইউনিয়নের ২ নং ইউপি সদস্য আলহাজ আমজাদ হোসেন জানান, এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন স্কুল, কলেজের শতশত শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসী আসা যাওয়া করে।

এখানে পাকা সেতু নির্মাণ হলে এলাকাবাসীর কষ্ট লাঘব হবে এবং এই কাঠের সাঁকোকে অনতিবিলম্বে পাকাব্রিজে পরিণত করতে আমাদের চেয়ারম্যানও অনেক আন্তরিক।

মুন্সীগঞ্জ ১-আসনের সংসদ সদস্য মাহী বি চৌধুরী এমপি জানান, সেতু অলরেডি টেন্ডার হয়ে গেছে আশাকরি খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সেতুর কাজ ধরতে পারবো।

সিরাজদিখান উপজেলা প্রকৌশলী শোয়াইব বিন আজাদ বাংলাবাজার পত্রিকাকে জানান, সাঁকোটির কথা আমি শুনেছি। আসলে সাঁকোটি পি আই ও অফিস থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই সেতুর কাজ আরম্ভ হবে।