ই-পাসপোর্টের যাত্রা শুরু

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে সব কিছুতেই লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া, ডিজিটাল হচ্ছে দেশের সব কিছু। এর ছোঁয়া লেগেছে পাসপোর্টেও।

নানান চড়াই উৎড়াই পেড়িয়ে অবশেষে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট পেতে যাচ্ছেন দেশের নাগরিকরা। ঢাকার আগারগাঁও, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে আপাতত এটি দেয়া হবে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার ই-পাসপোর্ট বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সর্বপ্রথম ই-পাসপোর্ট পাবেন। দেশের সব নাগরিক এ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তিনি জানান, প্রথমে উত্তরা, আগারগাঁও ও যাত্রাবাড়ী থেকে ই-পাসপোর্ট দেয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ কার্যক্রম চালু হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের মধ্যেই সারাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ রয়েছে সরকারের। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরতরাও পর্যায়ক্রমে ই-পাসপোর্ট পাবেন। একইসঙ্গে এমআরপি পাসপোর্ট কার্যকর থাকবে বলে জানান তিনি।

ই-পাসপোর্ট হবে ৪৮ ও ৬৪ পাতার। আর মেয়াদ হবে পাঁচ ও ১০ বছর মেয়াদী। ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদী সাধারণ পাসপোর্টের (১৫ দিনের মধ্যে দেয়া হবে) এর জন্য ফি লাগবে ৩ হাজার ৫০০ টাকা।

সাতদিনের মধ্যে (জরুরি) পেতে হলে ৫ হাজার ৫০০ টাকা ও দুইদিনে (অতি জরুরি) পাওয়ার জন্য খরচ করতে হবে ৭ হাজার ৫০০ টাকা।

একই সংখ্যক পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য পাঁচ হাজার, জরুরি সাত হাজার ও অতি ‍জরুরির জন্য নয় হাজার টাকা হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট করতে লাগবে যথাক্রমে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা, জরুরি সাত হাজার ৫০০ টাকা ও অতি জরুরি ১০ হাজার ৫০০ টাকা।

৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট করতে লাগবে যথাক্রমে সাত হাজার (সাধারণ), নয় হাজার (জরুরি) ও ১২ হাজার (অতি জরুরি) টাকা।

ই-পাসপোর্টের আবেদন অনলাইনে অথবা পিডিএফ ফরমেট ডাউনলোড করে পূরণ করা যাবে। এতে কোনো ছবির প্রয়োজন হবে না; কাগজপত্র সত্যায়নও করতে হবে না।

বিশ্বের ১১৯তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট চালু করল বাংলাদেশ।