বিচ্ছুরিত বিষাদ

বিচ্ছুরিত বিষাদ
-সহন রুদ্র

যখন তুমি নামক শব্দটা;
অন্য কারো সিঁদুরে শঙ্কিত নয়।
অপবিত্র জলের ফোটায় পূরণ করে যাচ্ছে,
সংসারের এক একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি।
তখন কোন অসহায়ের চিৎকারে, এই শহরের;
মোটা চামড়ার হৃদয় গুলো আর কাঁদতে চায় না।
ছায়া শূন্য অসুরের মত
আঁকড়ে ধরে নিজেকে, নিজের স্বার্থে।
সে বলে, কাছে আসার গল্পে,
ঘোর বিরোধী আমি এখন।
আপাতত অস্পষ্ট এক দূরত্বেই আমি
বাঁচতে চাই, বাকীটা জীবন।
তুমি তখন, দেবরানী বেশে ছড়াতে থাকো,
কত স্মৃতির স্বর্ণ মুদ্রা, এই অভাবীর ঝুলিতে।

যখন তুমি নামক শব্দটা;
ছোট্ট মাথার এই কিঞ্চিত মগজে এসে আঘাত করে।
তখন কোন মাপকাঠির ছেঁড়া সুতো,
কেন জানি আর জোড়া লাগতে চায় না।
সে বলে, বাঁধনে আর বিশ্বাসী নই আমি এখন।
আপাতত অনুমান করেই বাঁচতে চাই, বাকীটা জীবন।
তুমি তখন, রক্তক্ষরণের মত নৃত্যে মেতে উঠো,
এই নিষ্প্রাণ, নিস্তেজ মস্তকে।

যখন তুমি নামক শব্দটা;
মহামারী ব্যাধির মত আমার শব্দ সমুদ্রের ঢেউয়ে
সূচনা করে যাচ্ছ প্রতিটা মুহূর্তের মরণ
তখন কোন মাঝি আর সাহস করে না জীবিকায়।
সে বলে, অপমৃত্যুর মিছিলে,
আমি কোন সংখ্যা হতে চাই না।
আপাতত, ক্ষুধার্ত শীর্ণ পাঁজরের শরীরেই
বাঁচতে চাই, বাকীটা জীবন।
তুমি তখন, দামী দামী ওষুধের গন্ধ হয়ে
খুঁজে নিচ্ছ পথ, আমার নীল শিরা উপশিরায়।

যখন তুমি নামক শব্দটা;
হঠাৎ পূর্ণিমা চাঁদস্নাত দক্ষিণ পাশের ছাদটার দেয়ালে
জেগে উঠে পুরনো ইতিহাসের বোরিং লেকচারের মত।
তখন খুব ক্লান্ত শরীরের মধ্যবিত্তরা
আর স্বপ্ন দেখতে চায় না।
ওরা বলে, অনেক হয়েছে এবার, এই সপ্ন-সপ্ন খেলা।
আপাতত, নির্বাসিত বাসের যাত্রা আর
অপ্রাপ্তির বিশাল যোগবিয়োগ নিয়েই
বাঁচতে চাই, বাকীটা জীবন।
তুমি তখন, সদ্য আমদানিকৃত গাড়ির গ্লাস নামিয়ে,
শিখিয়ে দিচ্ছ, এক কলঙ্কিত জীবনের বেঁচে থাকা।

হ্যা, তুমি জিতে গেছো,
কিন্তু নিয়েছ অভিশাপ,
ঐ হেলেনের পথ ধরে।
হ্যা, তুমি জিতে গেছো,
কিন্তু পেয়েছ সতীত্বের দাগ,
ঐ সীতার আঁচল ভরে।।