এনামূল হক পলাশের ৫ কবিতা

পিরামিডে চাপা পরে আছে মাটি
পৃথিবীতে মাটির চেয়ে ভারী কিছু হয় না।
মাটিতে গেঁথে থাকে পাথরের স্তুপ।
পাথরের ভার নিয়ে মাটিদের জীবন
পিরামিডের পাথরে চাপা পরে থাকেন।
মাটির জগতে পাথরেরা এক ভার
সজীব জীবনের বাধা হয়ে আছেন।
মাটির উপরে বসে বসে পাথরের দল
সাজিয়েছেন এক আশ্চর্য পিরামিড।
পিরামিডের আগায় বইসা আছেন
জগদ্দল পাথরের কেরানি একজন।

কবির ভিটা
উচিত পুর ঘাট পেরিয়ে একদিন
চলে যাবো আরও কিছুদূর।
মাটিকাটা কামলা হয়ে হাওরের
মাঝখানে এগরা গাছের সারি
সরাতে সরাতে জাগিয়ে তুলবো
পথহীন এক টুকরো ভিটা।
জলে ভেসে গেলে পরে
নয় দিগন্ত পথ খুলে যাবে।
খড়ের বানানো বেণীতে আগুন
ধরিয়ে বসে থাকবো প্রতীক্ষায়,
হাতের তালুতে না যতক্ষণ
ছড়িয়ে পড়ে উত্তাপ।

মনে করো জ্বলন্ত বেণী হাতে
বসে আছি কবির ভিটায়,
তুমি জলের ওপারে থেকে
এইসব দৃশ্য দেখো নিদ্রায়।

প্রকৃতির মক্তব
প্রকৃতির বিদ্যালয়ে পরিক্ষা নাই,
এখানে চলে অবিরাম লড়াই।
আর
লড়াইয়ের ভেতর থেকে
নিতে হয় শিক্ষা।
নৈতিক শিক্ষায় উত্তীর্ণ হতে বা
মানবিক হতে গেলে পরিক্ষা লাগেনা,
নিতে হয় দীক্ষা।
অথচ
মসজিদ, মন্দির, গির্জায়
মক্তবে, ইস্কুলে, মাদ্রাসায়
আচারের শিক্ষা ও পরিক্ষায়
ছোট ছোট জীবন চলে যায়।
মনে করো মক্তব, মাদ্রাসা, ইস্কুলে
মানুষেরা পাঠ নিবে দলে দলে।
যে যাবার ঝরে যাবে
যে আসার ফিরে আসবে
যে শেখার শিখে নিবে
তারপর
জগতের মূল স্রোতে মিশে যাবে।
মনে করো পৃথিবীটা এরকম
অনেক মক্তবে, ইস্কুলে ভরে আছে,
সেইখানে কোনো পরিক্ষা নাই।

ফ্রিডম
বাতাসের কোনো ছায়া থাকেনা
বাতাসের স্থিরতা আছে, আছে চলাচল।
রামার বাড়ি থেকে সাবানিয়ার কান্দা
ভরপুর হয়ে আছে বাতাস।
সারি সারি ধান ক্ষেত, উজাউড়ির বন,
নলখাগড়া, বিন্না গাছের ঝোপ,
গুচ্ছ গুচ্ছ ঘর, বাড়ি, পুকুর,
এমনকি মানুষের সচল শরীর,
লুকোচুরি বাতাসের বিষন্ন দুপুর,
ছায়াহীন বাতাসেই ঠাঁসা ভরপুর।
ছায়াদের স্বাধীনতা থাকেনা
বাতাসের কিছুটা আছে।
ধরো আমি এক বাইদ্যা বাতাস
পৃথিবীর পথ ধরে চলি।
ধরো পৃথিবীতে আমার কোনো ছায়া নাই,
কারো প্রতি আমার কোনো মায়া নাই।

সন্দেহ ফুল
রাশি রাশি ফুল মানচিত্র জুড়ে
সন্ধ্যা, রাত কিংবা ভোরে ;
গানের পাখির বিচ্ছেদি সুরে
দিন গিয়ে রাত আসে সবুরে।
দিগন্ত জুড়ে ফুটেছে ফুলের ধারা,
ফুলভারে জীবনের সব পথ সারা;
ফুলের আঘাতে বন্ধুও দিশেহারা,
রাজাকে বন্দী রাখে ফুল পাহাড়া।
পথে উঠে আসে জাগতিক ভুল
ঝরে যাওয়া প্রেম গন্ধ বকুল;
পৃথিবী জুড়ে যতোগুলো চুল
ততোগুলো আছে সন্দেহ ফুল।