পথ হারিয়ে পথে

রকিবুল ইসলাম মুকুল
শুনশান দুপুর। শীত ফুরিয়ে আসছে। ফাগুনের আগুন দেখা না দিলেও তাঁতানো রোদের ঝাঁঝ খানিকটা জানান দিচ্ছে। শীত যাই যাই করেও ভোর রাতে উঁকি দেয় জানালা গলিয়ে। দিনে আবার উল্টোটা।

ঝাঁ চকমকে রোদ জানিয়ে দেয় লিলুয়া বাতাস আসছে। ফুরফুরে বাতাসের কাঁধে চেপে সেই রোদ নেচে বেড়ায়। আজকের রোদটা সম্ভবত যুবতী রোদ। তাঁতানো আগুন না থাকলেও তার তেজ ঘরের ভিতর থেকেই আঁচ পাচ্ছে বনলতা।

উত্তরের জানালার পর্দাটা দুলছে হালকা বাতাসে। আর সেই ফাঁক গলে ঝলমলে নীল আকাশটা দেখতে মন্দ লাগছেনা। ছিটে ফোটা শাদা মেঘ তুলোর মত ভেসে বেড়াচ্ছে আনমনে। বনলতাদের বাসাটা টপ ফ্লোরে।

মাথার উপরে ছাদ। আট তলা বাড়িটা বেশ পুরনো। মেঝের মোজাইক মলিন হয়েছে বয়সের ভারে। বাসাটায় ওঠার আগে দেয়ালে রঙ করে দিয়েছিল বাড়িওয়ালা। কিন্তু তিন বছরেই সেই রঙের বুকের ভিতর উঁকি দিচ্ছে পুরনো কালসেটে রঙের আদিম আস্তরণ। পলেস্তরাও খানিকটা গা ছেড়ে দিয়ে ঝুলে আছে এখানে সেখানে।

গলির শেষ বাড়ি এটা। এর পরেই কচুরিপানায় ঠাসা ঝিল। ঝিলের ওপর কতগুলো টঙঘর। বর্ষাকালে থই থই করলেও শীতের শেষ বলে শীর্ণ আধমরা কচুরিপানাগুলো এখন কোনমতে মাটি কামড়ে মাথা তুলে তাকিয়ে আছে।

বর্ষার নতুন জল পেলে এই লিকলিকে নুয়ে থাকা কচুরিপানাগুলোই আবার সতেজ হবে। যেন ফিরে পাবে নতুন প্রাণ। বনলতার চোখের সামনেই ঘটে সব। এই জানালায় বসেই দেখে কচুরিপানাগুলোর যৌবন।

নীলচে শাদা থোকা থোকা ফুলে ছেয়ে যায় ঝিলটা। সে সময়টায় টঙঘরের পাশে আড়াআড়ি কয়েকটা ঘাট বানানো হয়। বাঁশ টেনে খানিকটা দুরে সরিয়ে রাখা হয় কচুরিপানাগুলো। কর্মজীবি নিম্ন আয়ের নারীরা সেই ঘাটগুলোতে গোসল করে। হাড়িপাতিল ধোয়।

কিশোর কতগুলো ছেলে জুটে একবেলা চোখ জবাফুলের মত লাল করে দাপাদাপি করে। বর্ষা ফুরোলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে কচুরিপানাগুলোর জৌলুস। গাঢ় সবুজ বর্ণ থেকে খয়েরিতে নেমে আসে গায়ের রঙ। পানি কমতে থাকে। তারপর কাদামাটি আঁকড়ে কোনমতে টিকে থাকে। (সংক্ষেপিত)

(উপন্যাসটির নাম ‘পথ হারিয়ে পথে‘। বাকিটুকু পড়তে হলে অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০ এ অনিন্দ্য প্রকাশের প্যাভিলিয়ন-৩১ এ গিয়ে বইটি সংগ্রহ করতে হবে।