কর্মমূখর গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ, চলছে স্টল নির্মাণের তোড়জোর

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবর্ষ গ্রন্থমেলা’ শুরু হচ্ছে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে। এদিন বিকেল তিনটায় গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সে হিসেবে বাকি এখনো দেড় সপ্তাহের মতো। কিন্তু সরোজমিনে গিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গ্রন্থমেলার জন্য নির্ধারিত স্থানে প্রকাশনীগুলোর স্টল নির্মাণের তোড়জোর দেখে মনে হলো, গ্রন্থমেলা শুরু হতে বুঝি খুব বেশি দিন বাকি নেই।

কারণ হিসেবে জানা গেছে, এবার বাংলা একাডেমি থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে স্টল নির্মাণের কাজ শেষ করতে প্রকাশকদের প্রতি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এবারের গ্রন্থমেলাটি ‘মুজিব বর্ষ’-তে হওয়ায় বিশেষ ভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে গ্রন্থমেলা সাজানো হবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। মেলায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও লেখালেখি, তার জীবন ও কর্ম নানাভাবে উপস্থাপন করা হবে।

গ্রন্থমেলার প্রতিদিনই বাংলা একাডেমির মঞ্চে থাকবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলোচনা। এছাড়া ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবর্ষ গ্রন্থমেলা’ সামনে রেখে বাংলা একাডেমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ১০০ বই প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে।

বইগুলো প্রকাশিত হবে আগামী তিন বছরে। তবে চলতি বছর গ্রন্থমেলায় ২৬টি বই প্রকাশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে একাডেমি। প্রাথমিক তালিকায় উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘ডাকটিকিট ও মুদ্রায় বঙ্গবন্ধু’, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইংরেজি অনুবাদ ‘ব্লাড অফ আওয়ার হিরো বঙ্গবন্ধু’, ‘বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন’, ‘মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ও বাংলা একাডেমি’ ইত্যাদি।

‘মুজিব বর্ষ’ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি গ্রন্থমেলার অভ্যন্তরে নিজস্ব পরিকল্পনা মোতাবেক নানা ধরণের ব্যানার ও সাজ-সজ্জা করবে।

যার জন্য গ্রন্থমেলায় অংশ নেয়া প্রকাশকদেরকে এবার আগে ভাগেই তাদের জন্য বরাদ্দকৃত স্টল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে যাতে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্টল নির্মাণের সমস্ত কাজ শেষ করতে পারে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ২০১৯ সালের গ্রন্থমেলায় বলেছিলাম, ২০২০ সালে যে একুশের গ্রন্থমেলা হবে, এটা আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উৎসর্গ করব।

সেই প্রেক্ষাপটে এবারের মেলা সাজানোর চেষ্টা করছি, পুরো মেলার বিন্যাস করার চেষ্টা করছি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয় দেশ প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী অচিন্ত্য চয়নের সঙ্গে। তিনি বলেন, গতবার আমি ২টি স্টল পেয়েছিলাম। এবার পেয়েছি ৩টি। ফলে স্টলের সাজ সজ্জায় বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছি।

তাই আগেই স্টল নির্মাণের জন্য আমাদেরকে স্টলের স্থান বুঝিয়ে দেবার জন্য বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

দোয়েল প্রকাশনীর তাপস কর্মকার বলেন, গত কয়েকবার আমরা সিঙ্গেল স্টল পেলেও এবার ২টি স্টল পেয়েছি। এ কারণে স্বস্তি পাচ্ছি এই ভেবে যে, স্টলটিকে ভালো ভাবে গুছিয়ে দর্শকদের সামনে প্রেজেন্ট করে পারবো।

উপরন্তু এবার গ্রন্থমেলার আয়তন ও স্থান দুটোই বেড়েছে। ফলে মেলায় আগত দর্শনার্থীরাও আরাম করে মেলায় ঘুরে বেড়াতে ও পছন্দ মতো বই কিনতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হলেও এবার সিটি নির্বাচনের জন্য গ্রন্থমেলার উদ্বোধন একদিন পেছানো হয়েছে। তবে এ বছর লিপ ইয়ার হওয়ায় ফেব্রুয়ারি মাস ২৯ দিনে শেষ হবে।

ফলশ্রুত প্রতি বছরের মতো এ বছরও মোট ২৮ দিন মেলার জন্য বরাদ্দ থাকবে। তবে গত বছর মেলার সময় ২ দিন বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

সেজন্য এবার ১ দিন দেরীতে শুরু হওয়ায় এবারও মেলার দিন বৃদ্ধি করা দরকার বলে কোন কোন প্রকাশক মনে করছেন।