নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০ হাজার সদস্য মোতায়েন

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর।

সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে তিনি বুধবার সন্ধ্যায় এসব কথা বলেন।

সচিব বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০ হাজার সদস্য ভোটের মাঠে থাকবে। কেন্দ্রভিত্তিক সাধারণ কেন্দ্র্রে ১৬ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবে। এছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে র‌্যাব, বিজিবি থাকবে। কেন্দ্র সংখ্যা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রলালয়ের অধিনস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনীগুলোর প্রধান এবং প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে কিভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে সেটি কমিশনের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে। এরজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর দায়িত্ব তুলে ধরা হয়েছে। তারা বলেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় যা যা করনীয় সে ব্যাপারে তারা সচেতন আছেন। এ ব্যাপারে তারাও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, তারা আমাদের সবগুলো প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। তবে ভোটারদের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচলের বিষয়ে যে প্রস্তাব ছিলো সেটির বিষয়ে তারা বলেছে ঢাকায় ২ থেকে ৩ লাখ ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবে বিধায় তারা ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। ফলে নির্বাচনের যারা দায়িত্ব পালন করবেন তাদের সমস্যা হবে এবং যারা বিভিন্ন স্থান থেকে চলাচল করবে তাদেরও সমস্যা হবে। এটিতে তারা দ্বিমত পোষণ করেছেন। কমিশন সেটা মেনে নিয়েছে।

মো. আলমগীর বলেন, গোয়েন্দাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে মোট ১৮টি কেন্দ্র শুধু ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া তাদের কাছে এ ধরনের রিপোর্ট নাই যে এখানে খারাপ কিছু হতে পারে। একই সাথে ভবিষ্যতে এমন কিছু হতে পারে তার রিপোর্টও তাদের কাছে নেই। সব সময়ই তারা সতর্ক আছেন, কোন সমস্যা থাকলে তারা ব্যবস্থা নেবেন।

নির্বাচনের পরিবেশ ভালো আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে নির্বাচনের পরিবেশ ভালো রয়েছে। উত্তরের যে অভিযোগটি এসেছে সেটার ক্ষেত্রেও সাথে সাথে নির্বাচন কমিশন রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছে এবং তিনি সাথে সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ওসিকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর একটিও না ঘটে। নির্বাচনের দুইদিন আগে আরো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এখন পরিস্থিতি যা আছে তা তো থাকবেই আশা করি আরো ভালো হবে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটও সে সময় মাঠে থাকবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম এবং অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান, মহাপুলিশ পরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।