জুবায়ের আলম জাহাজীর পাঁচ কবিতা

১. তোমার আমার সাতসতেরো
এই দেহ সঙ্গাহীন বিছানায় পড়েছিল বহুদিন
অবসরে মাঝে খোলস বদলে যায়,
তোমার শুকনো ঠোঁটে প্রগাঢ় চুম্বনের ছাপ দেখেছি
অবশ্য, চেনা ঠোঁটের ঠিকানা আমার জানা নেই।
তোমার ভুললে চলবেনা পারদ!
এ বসন্তে কতকিছু বদলে গ্যাছে নিয়েছে বাঁক,
যৎসামান্য চাওয়ায় হয়েছি বিরোধী,
খুব গোপনে ঘটে যায় হৃদপিণ্ডের ছন্দপতন।
তবুও দিনের ব্যস্ততা শেষে আবার শুরু হয়
তোমার আমার সাতসতেরো।

২. একটি বেওয়ারিশ কবিতা
ইদানিং আমার স্বপ্নের মাঝে
একটি নবজাতক বেওয়ারিশ কবিতা তাড়া করে;
একজন কবি বন্ধু বেওয়ারিশ কবিতার খোঁজে নিজেই নিখোঁজ,
বহুদিন তাঁর সাথে দেখা নেই,
অবশ্য -এর সীমাবদ্ধতা থেকে নিজেও বহুদূরে ছিলাম !

পাড়া কেটে দুঃস্বপ্নের সড়কে প্রতিটি সকাল হেঁটেই চলেছি
একটি অবরুদ্ধ কবিতা কারামুক্তি পাবার বছর তিনেক আগেই
অবশেষে একটি বেওয়ারিশ কবিতার প্রকাশ্য দেখা মেলে,
ওর ময়না-তদন্ত শেষে বিমূর্ত হয়ে যায় সব ভাবনা !

৩. বিপদ
টি-শার্ট আর চাবির রিঙে
চোখা-চোখা স্লোগানের প্রচ্ছদ আঁকা দেখে
আমার বক্তব্যের শুরুতেই সভাগৃহ শূন্য,
পাতে বিপদ
ভাতে বিপদ।

আমার বাকশক্তি কাঁদে মাঝরাতে
এখানে তুলসীবৃক্ষের ভালোবাসা নেই
বিধিনিষেধ মান্য করে না কেউ,
ডানে বিপদ
বামে বিপদ।

নগদ মূল্যে সীমিত বুলি বিক্রি হবে বলে
চায়ের টেবিল, অফিসে, ক্লাবে, মাঠে, ময়দানে
পিনপতন শব্দে চলে দর কষাকষি,
চাওয়ার বিপদ
পাওয়ার বিপদ।

নিষ্কাম প্রেমের জন্য বসে আছে সুদীর্ঘকেশী
সে চোখের পেয়ালার পান করে অপরাজিতার সব নীল
স্বপ্নের তেতো স্বাদে পিছুটান দেয় প্রেম, তার জানা নেই,
বোধেও বিপদ
শোধেও বিপদ।

আমি চালচুলোহীন খুজি প্রতিদিন বৃথাই
ছায়া কবির এখানে পা বাড়ালেই জট
তাই অচেনা স্ববক নিয়ে বেসাতি কবিতার ভিন্ন গ্রহে,
চাই-এ বিপদ
নাই-এ বিপদ।

৪. আমাকে খুঁজে বেড়াই আমি
কবিতার চেনা-অচেনা শব্দ কিরণের
পবিত্র অসীম অনুভবে
যেখানে দূরত্ব গাঁথা শকুনের তীক্ষ্ণ নজর
তাজা লাশটিকে রয়েছে ঘিড়ে
ঠিক সেখানেই-
আমাকে খুঁজে বেড়াই আমি।

বেঁচে থাকার মিথ্যে আশ্বাসে বেঁচে থাকায়
আধারের একফালি ভাজে
জাগতিক চাওয়াগুলোর পূর্ণতা লাভে
ভালবাসার দরজায় মাথা ঠুকে
ভিন্ন আজ-
আমাকে খুঁজে বেড়াই আমি।

প্রিয় মেনু-কার্ডের শেষ সত্যকামে
সততা কণ্ঠের গর্জনে
যন্ত্রদানবের আধুনিক অসভ্যতায়
কাঙ্খিত যামিনী রায়ের হতে হাত রাখা
সেই পুরনো-
আমাকে খুঁজে বেড়াই আমি।

আমার নিষ্কাম প্রেমের জীবন্ত প্রচ্ছদে
ভুলে ভরা ভোলার সাগরে
মিছেমিছি বোঝার নাটকীয়তায়
হারিয়ে যাওয়া নেটওয়ার্কের বেঁড়াজালে
বছর দশেক আগের-
আমাকে খুঁজে বেড়াই আমি।

৫. নষ্ট সময়ের চিত্রকর
রীতিমতো নিরস্ত্রের প্রযত্নে সচরাচর যাওয়া আসা দেখে
ঘোরে মেতেছে স্মৃতিমাখা অটোগ্রাফ
চিত্রকরের আদিম শরীর বিমূর্ত এক হৃদয় আঁকবে;
মা এবং মাটির হৃদয়।

গণতন্ত্রের লকেট পরিহিত আজও গোলাম সালাম ঠুকছি;
তবুও চিত্রকর নিশ্চুপ এঁকে যায় ফায়ারিং স্কোয়ার্ডের ক্ষত।
আর কতো প্রতিহত করবে চিত্রকরের তুলিকে?
সেই থেকে আজও বসে আছে নবান্নের চিত্রকর।

সময়ের পালা বদলে
যাচ্ছে চলে পান্থ-বেলা।