স্কারলেট মিনিভেট

স্কারলেট মিনিভেট
-রাহুল চক্রবর্তী

নবমীর রাত সাড়ে দশটা
চায়না টাউনের গলিতে বাৎসরিক বন্ধুত্ব উদযাপনের শেষ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমরা
অকালকুষ্মাণ্ড বৃষ্টিছাট আর সিগারেটের গৃহযুদ্ধে কলকাতাও হয়েছে ক্রমশ অস্পষ্ট
হলুদ ট্যাক্সির খোঁজে চোখ যেতেই, ডুবেছি সময়ের প্রছন্নতায়
রাস্তার ওপরে দাঁড়িয়ে তুমি,
জীর্ণ, রিক্ত অথচ এক সঞ্জীবিত সৌন্দর্য
এই নাব্যতাহীন আমি, তোমায় দেখেছি প্রথমবার
পেঁয়াজখসী শাড়ি আর কাঁচপোকা টিপে

কেটেছে অনেকদিন, সম্পর্ক হয়েছে গভীর থেকে গভীরতর
প্রেমের মায়াজালে তুমি বেঁধেছ আমায় আষ্টেপিষ্টে
খুঁজে পেয়েছি ভালোবাসা, প্রত্যয়, বুকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা পলাশ ফুলের গন্ধ
যেভাবে পৃথু পেয়েছিল কুর্চিকে, আর অনিমেষ তার মাধবীলতাকে

আজ শনিবার, সন্ধ্যেয় লঞ্চঘাটে যাওয়াটা ইতিমধ্যে নেশায় পরিণত হয়েছে
হয়তো তোমাকে ভুলতে পারার নতুন কোনো চেষ্টা
বা চৌত্রিশমাসের সম্পর্কটাকে ছাইচাপা দেওয়ার নির্জন ঠিকানা
শুনেছি তুমি এখন পরিবর্তনের কাণ্ডারি, পরপুরুষের স্কারলেট মিনিভেট
মিথ্যে প্রতিশ্রুতির গেরুয়া রঙে জর্জরিত অজানা এক অসুখ
তবু শেষ বেলায় শুধু এটুকুই বলার –
‘ডগডগে লালের নেশায় আকাশটাকে মাতিয়ে দিয়ে সূর্য যখন ডুবে যাবে,
নৌকার গলুইয়ে মাথা রেখে আবার আসব ফিরে.. যেমনটা বলেছিলাম’