খসরু নোমানের তিনটি কবিতা

১. মেঘদল

‘জীবন একটা ফালতু জিনিস’
এই বলে
ভরদুপুরে
অন্ধকূপে
ঝাঁপ দিল ছেলেটি!
এদিকে
এই নগরে
অকাল বরষায়
গলা ছেড়ে গান গায়
একদল জন্মান্ধ ব্যাঙাচি!
এই দৃশ্যে একজন ঘুমে হাঁটা মানুষ
থমকে দাঁড়ালো
অকস্মাৎ গোধূলি নেমে এলো
জোনাকীরা পথ হারালো!

২. কংকালগ্রন্থি

দূর উপকূলে, মৌনতার চাঁদর জড়িয়ে
নিঃসঙ্গ নাবিক এক রয়েছে দাঁড়িয়ে।
শিস দিয়ে উড়ে গেলো পরিযায়ী পাখি
নিস্তরঙ্গ হাওয়ার ভেতর।
ব্যাকুল ছাহনি তার মেঘের ভেতর
খুঁজে পেলো ব্যথাতুর সুখ।
নাবিকের মন বলে, বৃষ্টি আসুক।
হঠাৎ মেঘেরা ছুটে আসে,
বালিয়াড়ী ঢিবির ওপর
ঢেউগুলো ফেনিল উৎসবে
নৃত্য করে নগ্নউল্লাসে
নাবিকের স্নিগ্ধধ্যানের তাল কেটে গিয়ে
আকাশটা ভরে যায় শকুন আর চিলে!

উপকূলে কেউ নেই আজ
কংকালগ্রন্থি পড়ে আছে কার ?

৩. বিপ্রতীপ

একটা জীবন
তবু
পুরোটাই জুড়ে তার মায়া!
ভবতরঙ্গে নাচে কৃষ্ণ আমৃত্যু বিরহ কাতর!
ভাঙ্গা ঘাটে চেয়ে থাকে অপলক রাঁধা!
একটাই জীবন
তবু
এতো ভাঙ্গাগড়া! এতো লয়সুর!
কৃষ্ণের বাঁশি বাজে অবিরল সুরে
তবু রাঁই দোলনায় অসুরের কোলে!
সরল অংকটা মেলে না মিলে না
হঠাৎ গোধূলী নেমে এলে!

একটা জীবন তবু, এতো তেজারতি!
কত হাটে খালি হাতে চলে বেচাকেনা!

প্রাচীন বৃক্ষটা শুধু জানে,
রাঁধা কেন নাচে না কৃষ্ণের গানে।