পলিয়ার ওয়াহিদ-এর একক কবিতা

বেহুলা কোকিলা
উৎসর্গ: শরীফ আহমেদকে

রাঙা হাতে কামড় বসাইলো কিসে?
হয় তো কোনো বিষ-চাষী পোকা
পোকের কী সাহস আছে মেয়ে?
হাত নয় যেন তার পাখির ডানা

তুমি কি মিসরের রানী ক্লিওপেট্রা
দুইখান মধুর মোমের লাহান হাত
বুকের কলব থেকে উড়ে এলো পাখি
মুহূর্তে হয়ে গেলাম প্রাচীন পারসিয়ান

অস্ত্র ছাড়া শুনি যুদ্ধের তামাম দাওয়াত
গুলি নেই তবু কেন বিগ্ধ হলাম?
পথ্য হাতে মেয়ে ছুটে যায় কড়ির নিকট
কাগজের বাঘ হাতে কে তাকে ফেরায়?

কিছু নয়- যে যুবক খিচুনি দিলো হাতে
উবু হয়ে কিতাবে পাঠমগ্ন তাতে
ওষুধের মূল্য দিতে সে ছিল খানিক লাজুক
হিংসার জলে জ্বলে কেন হলাম অহেতুক আগুন?

বলেছে যদিও ‘বোন’ হয়, সে তার পরগাছা ভাই
তখন কেন হলাম আদমের হিংসুটে ছাবাল
বোন হোক তবু তারে ছাড়ব না কাবিল
বেহুলা তোমার জন্য হব আমি হাবিল।

ভয়ানক কিছু ভেবে চমকে গেছে যুবতী পাখি
কথার সুরে তার মেঘনার ঢেউ
কোথায় হারাল আমার স্মৃতির মাগুর?
ঘাই দিয়ে উপশন পেল কি সে?

জানে না কিছুই সে সুর ছন্দ লয়
দেখিনি তো তার চোখে সমূহ কোন ভয়
ছিল কিছু লাজ তার, তবু সে অকূত বেহুলার জাত
এই ঘুপচি গলিতে কি জন্মাবে রোকেয়ার পাঠ!

কেন যে হলাম চাঁদ সওদাগর
বেহুলার বীণে কেন সহ্য হয় না তর
কাকে খুঁজি ঠিক মনে নেই সেই মুখ
ভাতের থালের মতো যদি মিলে যায়
আহারে সেই ক্ষুদার্থ বুক!

আড়াই হাজার বছর ধরে খুঁজেছি কি তারে
সুন্দর ময়লা আলোয় আমি দেখিলাম যারে
সাক্ষী থাকো তুমি এই মেঘনার ঘোলা জল
আর সেই দীক্ষিত হোমিও কোবিদ
দাওয়া হাতে যে ঢলেছিল চিকিৎসার আঙুল
কেন ভেঙে যায় বার বার স্নেহের রঙিন ভুল?

ফিরেছি যখন দোরে পাখি যেন ডাকে মনবনে
স্মৃতির চর থেকে কই ধরে ঘরে ফেরে জেলে
এ যেন ধুলোর মলিন পথে ফুটে ওঠা সূর্যমুখী
আদমের প্রায়শ্চিত্ত কি তবে হাওয়া ধুকে ধুকে?

এসব ভুলে যাও। মনে করো ফাঁদ এই প্রেম
তাতে তুমি ধরা খেলে পেতে পারো সামান্য ফল
এবার নিশ্চয় তুমি জানতে চাইছো আমার পরিচয়?
মনে করো আমারে তুমি, বেজন্ম চরের কুমড়ো ফুল!
তাও যদি সাহসে না কুলায় হে জালালী কইতর
ধরে নাও মেঘনার জলে ভাসা মৎস জাতক
তাও যদি মন না ভরে, তোমার হাতে কামড়ে দেওয়া সাপ
পীর আর বাউলের কাছে গিয়ে শুনো আমি তাদের বাপ।

বিষ ঢেলে দিলে তোমার চিরকাল হারাবে হুশ
তুমি হাওয়া আমি আদম-
বুকে নাও ভালোবেসে ক্রুশ।
নদী দিয়ে ঘিরে দিবো তোমার শোবার ঘর
চাঁন প্রেমিক আমি- তোমাকে জিতে নিব যুদ্ধের চর।