দেবযানী বন্যার ৩ কবিতা

নাভিটান
এসেছ কি অতীত পেরিয়ে ?
এই দেখো, এ দুহাতে ইবলিশ লিখেছে দোজখ। বৈঠা ধর, বসো হে পাটনি
আয়ুতে গোধুলি মেঘ, কুশাগ্র পুণ্য নেই পুঁজি,ভেসে গেছে প্রতিবর্ত সেতু।

জ্যোৎস্নার ঘরবাড়ি ,রোদের উঠোন
মেঘের নরম ঘ্রাণ -অপত্য তোমায় দিলাম।
সারল্যে- বিস্ময়ে রেখো এহেন যৌতুক ।

ভয়াল নিরন্ধ্র রাত, অযথাই চাঁদছবি খোঁজে কালো জল।
দিবার মুষ্টিতে ঢেলে সব যশোভাগ
এসো, হাত রাখো বিশ্বাসে
সহনীয় হোক পারাপার,

শস্যবীজ বুকে নিলে মাটি
শিকড়ে রেখোনা নাভিটান।

বন্দরের কাল
কিসের ইঙ্গিতবাহী দিগন্তের অনিকেত ঢাল,
লহরির শীর্ষে ভাঙে পরমায়ু- কুসুম কুসুম।
এইতো বন্দর ছেড়ে চলে যেতে অনির্দেশ পথ
রক্তিম গোধুলিমুখী দাঁড়িয়েছি সন্তাপহীন,
আমাকে ফেরাবে চাও জীর্ণ প্রমাদে!
শীতল নিহত চোখে ছায়াহীন বেগুনি প্রণয়
টাঙিয়ে রেখেছ তারে ,দংশন ঢাকোনি।
একটি সরল স্পর্শ, নিরাময় ডৌল,
আঙুলের হৃদ্য ওম, স্বপ্ন মনে হয়..

দ্যুতিমান, তোমার বিভাসে অনিবার রাত্রি নামে ম্লান,
বিযুক্ত ভিতরঘরে মুছে যায় আনন্দনাম।

কখনও জানোনি তুমি, জেনেছি কি
আমিও সমূহ, কখন বিগতস্পৃহ
ফেলে যাব নোঙর মুগ্ধতা!

মধুনাম
দীর্ঘ কোন করিডোরে চমকে যেতে নেই
দুপাশে দরজা সারসার-
চুপডাক দিলে কোন মায়াবী শ্বাপদ
বিধিবদ্ধ অভ্যর্থনা কোর,
গতি স্লথ হয় হোক প্রিয়তম ভুলে
প্রাথমিকে নখদন্ত বিজ্ঞাপিত নয়,
দেহতরু সুরভি স্ংকেত
নাভিকুণ্ডে সংগুপ্ত কস্তুরী।

তুমি কিছুদূর যাবে, সেও বইবে স্নিগ্ধস্রোতাটি, পাশাপাশি, হৃদয় সারণি
বেয়ে যতদূর মুগ্ধতা বিছানো।
আগাম প্রস্তুতিহীন মন্দলয়া খরস্রোতা হবে
খল জলে হনন প্রস্তুতি,
একে একে বিষদাঁত, সাবেকি দংশন।

তুমি তাতে নীলাভ হতে পারো,
ভেসে যেতে পার মানসিক,
একযুগ ডোবা ভাসা ক্রসিং পেরিয়ে
কুয়াশা কুয়াশা বোধে ঘাই মেরে ছুঁতে পার
সত্যি কোন মেঘহরিণীকে..
ভালবাসা যার মধুনাম।