ইলিশে ভরপুর হাট-বাজার

বাংলাবাজার পত্রিকা
সানা উল্লাহ সানু, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের হাট-বাজারগুলো ইলিশে ভরপুর হয়ে গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্রাম থেকে শহরের হাট-বাজার গুলো ইলিশের বেচাকেনায় এখন জমজমাট। অন্যদিকে মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ।

সোমবার সকালে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাট মাছ ঘাটে গিয়ে ইলিশের বেচাকেনা এবং জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বর্ষা মৌসুমের তুলনায় নদীতে বেশি পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে।

ইলিশ জেলে এবং আড়ৎধারদের সাথে কথা বললে তারা জানান, গত বর্ষাকালেও জেলেদের জালে এত ইলিশ ধরা পড়েনি।

শীতে ধরা পড়া ইলিশ যেন বর্ষার ইলিশের সংখ্যাকে হারিয়েছে এমনটাই ধারণা স্থানীয় জেলেদের। তার বলছে সে কারণে পূর্বের তুলনায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে ইলিশের দামও কমেছে অনেক।

একই দিন কমলনগর উপজেলার মাতব্বরহাট ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, এক কেজি ওজনের ইলিশের বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭০০-৮৫ টাকায়।

৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকায়। হাফ কেজি বা ভেলকা আকারের (৪০০-৫০০ গ্রাম) ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকায়। যা গত বর্ষা মৌসুমেও এ দামে পাওয়া যায়নি।

ইলিশকে কেন্দ্র করে শীতের রাতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি, কমলনগর এবং রায়পুরের মাছঘাট এবং বাজারগুলোতে ইলিশের ক্রেতা-বিক্রেতার হাকডাকে এখন সরগরম। কোথাও কোথাও মধ্য রাত পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে ইলিশ।

কমলনগর উপজেলার মতিরহাটের জেলে রিপন জানান, সাধারণত শীত মৌসুমে নদীতে অন্য মাছ বেশি থাকে। এ সময় ইলিশ মাছ কম ধরা পড়ে। কিন্তু এ বছর ব্যতিক্রম। গত পাঁচ বছরেও শীত মৌসুমে এত ইলিশ ধরা পড়তে দেখেননি তিনি।

শীত মৌসুমে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় লক্ষ্মীপুরের নদী অধ্যুষিত রামগতি, কমলনগর এবং রায়পুর উপজেলার জেলে পরিবারগুলো এখন খুবই আনন্দিত।

স্থানীয় ভাবে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার রামগতি বাজার থেকে রায়পুর এবং চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার সীমানা পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার এলাকায় ছোট বড় ২০টি মাছ বিক্রির ঘাট রয়েছে।

যার মধ্যে কমলনগর উপজেলার মতিরহাট মাছ ঘাটটি এ জেলার সবচেয়ে বড় ঘাট। গত কয়েক দিন ধরে এ ঘাটের আড়তদার ও মৎস্য শ্রমিকদের হাঁকডাকে মুখরিত হচ্ছে।

মতিরহাট ঘাটের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান লিটন জানান, মতিরহাট ঘাটে প্রতিদিন কয়েক হাজার মণ ইলিশের আমদানি (সরবরাহ) হচ্ছে।

মাছের ব্যাপক আমদানির জন্য দাম কম। এখান থেকে অনেক পাইকার কম দামে মাছ কিনে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্রি করা হয়।

কমলনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস জানান, শীত মৌসুমে স্বরণকালের সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। মৎস্য ঘাটগুলো উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলার সদ্য বিদায়ী হওয়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এএইচএম মহিব উল্যাহ জানান, জাটকা আহরণে কড়াকড়ি থাকায় ইলিশ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে।

এতে করে ঝাঁকে ঝাঁকে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে। জেলেরা সচেতন হলে ঝাটকা নিধন বন্ধ হলে সারা বছরই ইলিশ পাওয়া যাবে।

জানা যায়, ইলিশকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে ৬২ হাজারের বেশি জেলে মেঘনায় জীবিকা নির্বাহ করে। যার মধ্যে নিবন্ধিত ৩৭ হাজার জেলে সরকারি সুযোগ সুবিধা পায়। জেলায় জেলে পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ২ লাখের ওপর। প্রতি বছর লক্ষ্মীপুরে ইলিশের গড় উৎপাদন ৩৫ হাজার মেট্রিক টন।