শ্রাবণী

শ্রাবণী
-লিয়া শারমিন হক

জোনাকি পোকার রাতের স্বপ্ন আর আসেনা শ্রাবণীর৷
কোন সুনামির আশঙ্কায় চেঁচিয়ে উঠে
দেখে, কটা বীভৎস মুখ তেড়ে আসছে ওর দিকে
সপসপে ভিজে যায়, পনর বছরের কোমল শরীর
ঘরময় গুমোট হাওয়া আছড়ে পড়ে বন্ধ জানালায়
রাজ্যের প্রশ্ন কড়া নাড়ে কচি মনে ৷ অস্ফুটে বলে,
“মা! তুমি কোথায়? আমার ভয় করছে, বড্ড ভয় করছে”
“আমাকে জড়িয়ে নাও তোমার বুকে!”
ক্লাসে প্রথম হওয়া মেয়ে স্কুলে যেতে চায়না,
পথে ক’ জন রোমিও জ্বালাতন করে৷
চিরকুটে ‘তোমাকে চাই গলির চিপায়’, ‘চুমু দাও বন্ধুরে’
লিখে উড়িয়ে দেয় নীলচে ইউনিফর্মে
‘যৌবন ভরা অঙ্গে, রূপের সুধা পান করে যাও!’
বেসুরো ঝড়ে, ছোট্ট শ্রাবণীর পিলে চমকে যায়৷
ওদের ফ্যাকাসে ঠোটে নাগীনের কুণ্ডলী৷

মোটর সাইকেলে ধুয়া উড়ায় পোড়া মাটি, পিচ্চি পাথর,
কটা চুলো গাছ, কানা পাহাড়…
লাল পানি খেয়ে নীল হয়ে থাকে প্রায়সময়
রক্তে পোড়ে সুন্দরী আর আগুনের নেশা
শ্রাবণীর কষ্টের সাক্ষী থাকে খাঁচার পাখিটা
অসহায় অশ্রু ঝরায় ফ্রেমে বাধা মায়ের ছবিতে
কল্পনা ছিল ডাক্তার হয়ে দুখীর ঠোটের জ্যোৎস্না হবে
আজ সেই নিষ্পাপ চোখে নেমেছে ঘোর অমাবস্যা৷
থরথরিয়ে কাপে খিল আটা কাচের আলমারিতে
বন্দি কৃতিত্বের সাক্ষী মেডেল, ট্রফি সারি সারি
হঠ্যাৎ একদিন!
করো অর্ধ উলঙ্গ নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়
ব্যাজ, সাদা ফিতে ছিটকে পড়ে এদিক ওদিক
কারা যেন চিৎকার করে উঠে
“হায়! হায়!” এ তো আমাদের শ্রাবণী’,
বেঁচে যায় শ্রাবণী! এভাবেই