যাত্রা বিরতির দাবিতে ৩ ঘণ্টা ট্রেন আটকে রাখল জনতা

বাংলাবাজার পত্রিকা
জামালপুর: জামালপুরের নরুন্দি রেলস্টেশনে আন্তঃনগর সব ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে ট্রেন অবরোধ করে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

এ সময় মানববন্ধনে অংশ নেয়া উত্তেজিত জনতা প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকে রাখে।

বুধবার সকালে নরুন্দি রেলস্টেশনে নরুন্দি সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন,নরুন্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হক, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুল আলম, নরুন্দি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মন্জুর মোর্শেদ, নরুন্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোজ্জামেল হক ও সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে নরুন্দি রেলস্টেশনে রেলওয়ের অবকাঠামোগত সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। তারপরও এই স্টেশনে শুধুমাত্র লোকাল কয়েকটি ট্রেন ছাড়া আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই।

এতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন জামালপুরের নরুন্দিসহ পাঁচ ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী শেরপুরের নকলা উপজেলার বাসিন্দারা।

নরুন্দি থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের একমাত্র যোগাযোগের বাহন হিসেবে ট্রেনকে বেছে নেয়া হয়। এরপরও এখানে আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই।

তারা বলেন, নরুন্দি এলাকায় একটি মহিলা ডিগ্রি কলেজ, একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দুটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি সিনিয়র মাদরাসা, একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র রয়েছে।

এখানে এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন বার বার ট্রেনের যাত্রাবিরতির আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি।

দ্রুত সময়ের মধ্যে এ স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।

যাত্রা বিরতির দাবিতে নরুন্দি স্টেশনে দেওয়ানগঞ্জ কমউটার ট্রেন ৩ ঘন্টা আটকে রাখলে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ ও জামালপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু (পুর্ব) রেলপথে চলাচলকারী আন্তনগর ট্রেনসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে।

ফলে ওসব ট্রেনের নারী ও শিশুসহ শত শত যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান নরুন্দি রেলস্টেশনে উপস্থিত হয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে উত্তেজিত জনতা অবরোধ তুলে নেয়। এরপর ট্রেন চলাচল শুরু হয়।