কূটনীতিকরা ‘আচরণবিধি’ অনুসরণ করবে প্রত্যাশা সরকারের

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এদেশে কর্মরত বিদেশী কূটনীতিকরা ‘আচরণবিধি’ মেনে চলবেন আশা প্রকাশ করে বলেছেন বিদেশী কিছু মিশন বাংলাদেশের অভ্যরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুঃখের বিষয় এখানে কিছু বিদেশী মিশন আমাদের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করছে। নিজ নিজ দায়িত্বের বাইরে অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করা ঠিক না।’

কিছু বিদেশি কূটনীতিক ঢাকা মহানগর মেয়র নির্বাচনের আগে এখানে ব্রিটিশ হাই কমিশনারের বাসভবনে একটি বৈঠক করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

মোমেন বলেন, ‘তাদের (কূটনীতিক) নিজ নিজ দায়িত্ববোধ থাকা উচিত। আমরা আশা করি যে তারা তাদের দায়িত্ববোধ অনুসরণ করবেন।’

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নেবে কে যাবে (নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে) এবং কে করবেন না। ‘আমরা আচরণবিধি করেছি। কূটনীতিকদেরও আছে। আমরা আশা করি তারা আচরণবিধি অনুযায়ী কাজ করবেন।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কূটনীতিকদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে বলতে পারেন। মেয়র নির্বাচন সম্পর্কে মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকলকে সরকারের সব ধরনের হস্তক্ষেপমুক্ত একটি মডেল নির্বাচন করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন পদ্ধতি খুবই সুষ্ঠু ও ন্যায্য। আমরা খুব স্বচ্ছ। আমাদের নির্বাচনও হবে খুব স্বচ্ছ।’

এর আগে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট সি. ডিকসন তার বাসভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আকাঙ্খা ব্যক্ত করে বলেন যে ঢাকা সিটি নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে যেখানে জনগণ একটি উৎসব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোট দিতে পারবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি নির্বাচন কমিশন এবং চার মেয়র প্রার্থীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাদের সাথে ভাল আলোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, একজন কূটনীতিকের পক্ষে মানুষের সাথে দেখা করা এবং দেশে কী চলছে তা জেনে রাখা খুব স্বাভাবিক।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) উভয়ের মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচন আগামী ১ ফেব্রয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।