ঢাকার দুই সিটিতে ভোট উৎসব, রয়েছে শঙ্কাও

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে আজ শনিবার। এ উপলক্ষ্যে উৎসবে আমেজে ভাসছে পুরো মহানগরী। কিন্তু এরপরেও কি জানি কি হয় টাইপের শঙ্কাও রয়েছে জনমনে।

এদিকে সিটি নির্বাচন উপলক্ষ্যে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে রাজধানীকে। শনিবার সকাল ৮টায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি শুক্রবারের মধ্যেই সম্পন্ন করেছে। শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২ হাজার ৪৬৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইভিএমে সিটি ভোট এবারই প্রথম। তাই একধরনের চাঞ্চল্যও কাজ করছে। অন্যদিকে ভোট কেন্দ্রে দখল বা ভোটচুরি হতে পারে বিভিন্ন প্রার্থীর এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অজানা শঙ্কায় আছেন নগরবাসী।

সবকিছুর পরেও নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনসংশ্লিষ্টরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রয়েছে। তিনি নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন কারও সহায়ক না, কারও পক্ষে বা বিপক্ষেও না। সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে আইন অনুযায়ী কমিশন দায়িত্ব পালন করছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, ভোটার, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, ভোট কেন্দ্রে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। টানা ২০ দিন প্রচারণা শেষে নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় সব প্রকার প্রচারণা শেষ হয়েছে।

ভোট উপলক্ষে রাজধানীতে ইতোমধ্যে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টায় বন্ধ হয়েছে সব ধরনের যান চলাচল।

এ ছাড়াও শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত নৌচলাচলও বন্ধ থাকবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে ইসি।

এদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার নিয়োজিত থাকছে এবং বিজিবি, র্যা ব ও নৌপুলিশ নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন বাহিনী বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটের দায়িত্বে নিজ নিজ সদস্যদের নির্দিষ্ট জায়গায় মোতায়েন করেছেন।

ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই সিটিতে ২ হাজার ৪৬৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৫৯৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ। আর সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৮৭১টি।

নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ৬ জন অস্ত্রসহ পুলিশ (একজন এসআই, একজন এএসআই ও চারজন কনস্টেবল), ২ জন অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার এবং ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার/ভিডিপি সদস্য (চারজন নারী ও ছয়জন পুরুষ) মোতায়েন থাকবে।

আর সাধারণ ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রসহ চারজন পুলিশ (এসআই/এএসআই ১ জন ও ৩ জন কনস্টেবল), ২ জন অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার, ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার/ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে।

এই হিসেবে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত থাকবে আনসার ও পুলিশের ৪২ হাজার ৬৮২ জন সদস্য।

আর ভোটকেন্দ্র এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জন্য ৭৫ প্লাটুন বিজিবির ২ হাজার ২৫০ জন জোয়ান নিয়োজিত রয়েছে।

এ ছাড়া পুলিশ ও এপিবিএন সমন্বয়ে ১২৪টি ভ্রাম্যমাণ ও ৪৩টি স্ট্রাইকিং টিম, র্যা বের ১২৯ টিম নিয়োজিত থাকছে।

অর্থাৎ র্যা ব, পুলিশ, এপিবিএন স্ট্রাইকিং ও ভ্রাম্যমাণ টিম মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজারের মতো ফোর্স মোতায়েন থাকছে। সব মিলিয়ে এ নির্বাচনে ৫০ হাজারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর জানান, প্রয়োজনে মাঠ প্রশাসন তাৎক্ষণিক যেখানে যেমন দরকার সে অনুযায়ী যে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োজিত করার নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন ও অপরাধের বিচারকাজের জন্য দুই সিটিতে ১২৯ জন নির্বাহী হাকিম ও ৬৪ জন বিচারিক হাকিম নিয়োগ করা হয়েছে।