জামালপুরে ডিসির পর এবার অধ্যক্ষের নারী কেলেংকারী

বাংলাবাজার পত্রিকা
জামালপুর: জামালপুরে ডিসির পর এবার অধ্যক্ষের নারী কেলেংকারীর ঘটনা ফাঁস হয়েছে। চলন্ত তিস্তা ট্রেনের কেবিনে প্রাক্তন ছাত্রীর সাথে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সালামকে (৫০) রেলওয়ে পুলিশ আটক করলে নারী কেলেংকারী ঘটনা ফাঁস হয়।

আটককৃত আব্দুস সালাম জে জে কে এম স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি জামালপুর শহরের বেলটিয়ার সিরাজুল হকের ছেলে।

জামালপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাপস চন্দ্র পন্ডিত জানান, রোববার দুপুরে তিস্তা ট্রেনটি জামালপুর থেকে ছাড়ার কিছুক্ষণ পর ট্রেনের যাত্রীরা কর্তব্যরত পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে- একটি কেবিনে অসামাজিত কার্যকলাপ চলছে।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেবিনের দরজায় কড়া নাড়া হলে দরজা খুলেন অধ্যক্ষ। ৩ সিটের কেবিনে সেই নারীসহ তারা দুইজনই ছিলেন। দড়জা খোলার পর পুলিশ দেখে অধ্যক্ষের হাতে থাকা একটি কনডম তিনি মুখের পুরে নেন।

এরপর তল্লাশি করা হলে পকেট থেকে একটি কনডম পাওয়া যায়। এরপর রেলপুলিশ তাদের আটক করে দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নেয়। পরে আটককৃতদের ফিরতি তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনে এনে জামালপুর জিআরপি থানায় আনা হয়।

এ বিষয়ে রেলের আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি তাপস চন্দ্র পন্ডিত।

অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম দাবি করেন, ঘটনাটি পুরোটাই সাজানো। তাকে ফাঁসানোর জন্য পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি পক্ষ এই চক্রান্ত করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা নারী কেলেংকারীর ঘটনায় জড়িত অধ্যক্ষ আব্দুস সালামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। জেজেকেএম স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রীদের অভিভাবকরাও বিচারের দাবি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, ইতোপুর্বে অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম একাধিকবার হাতে নাতে নারীসহ এলাকাবাসীর কাছে আটক হয়েছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, তার কলেজের ছাত্রীদের ফুঁসলিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করতেন। জেজেকেএম কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক মহলে এমন অভিযোগ আগে থেকেই চাউর ছিল।

এর আগেও এমন একাধিক ঘটনা ঘটিয়ে প্রভাবশালীদের ম্যানেজে অর্থ ব্যয় করে তিনি পার পেয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।