বেরিয়ে এসেছে শিক্ষক ও গৃহবধূ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য

বাংলাবাজার পত্রিকা
নেত্রকোনা: নেত্রকোনার সদর উপজেলায় শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসা স্কুল শিক্ষক উজ্বল চৌধুরী ও বারহাট্টার গৃহবধূ তমালিকা হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচন করেছে নেত্রকোনা পুলিশ।

দুই ঘটনাতেই হত্যাকারী হিসেবে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নিহত শিক্ষকের স্ত্রী এবং গৃহবধূর স্বামী।

১৬৪ ধারায় দেয়া এসব জবানবন্দির কথা বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম সাংবাদিকদের জানান, মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক উজ্বল চৌধুরীকে তার স্ত্রী দুই সন্তানের জননী মনি বেগম ঘুমের ঔষধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার সিংহের বাংলা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামে শ্বশুড় বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন উজ্বল চৌধুরী।

পরে মনি ও তার চাচাতো ভাই আনোয়ারুল ইসলাম জয় মিলে তাদের বাড়ির পাশে জঙ্গলে নিয়ে গত ২৬ জানুয়ারি ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে জঙ্গলেই লাশ ফেলে রেখেছিলেন। স্বামীর অভাব অনটন নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে খুন করেছেন বলে জানান মনি।

অন্যদিকে, গত ৮ জানুয়ারি দিবাগত রাতে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় তমালিকা (২০) নামে সাত মাসের অন্তঃসত্বা গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করে তার স্বামী রাসেল মিয়া।

বারহাট্টার সিংধা গ্রামের ওই রাসেল অন্য একাধিক নারীর সাথে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত থাকায় সে কয়েক জনের সহায়তায় তার শয়নকক্ষে তমালিকাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।

এ ঘটনার পর ঘটনাটি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে ঘরে চুরি হয়েছে ও চোরেরা খুনটি করেছে এমন নাটক সাজিয়েছিলেন রাসেল। কিন্তু তাতেও তিনি রক্ষা না পেয়ে পুলিশে ধরা পড়েন।