সেই অধ্যক্ষকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ, প্রতিবাদে উত্তাল জামালপুর

চলন্ত ট্রেনে অধ্যক্ষের অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে জামালপুরের মানুষ। বিক্ষুব্ধ ছাত্র-যুবকরা সোমবার ওই অধ্যক্ষের দুটি কুশপুত্তলিকা পোড়ায়- বাংলাবাজার পত্রিকা

বাংলাবাজার পত্রিকা
জামালপুর: অধ্যক্ষের ছাত্রী নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদে বিচারের দাবিতে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে জামালপুরের মানুষ।

এই দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও সরব রয়েছে। অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম চৌধুরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অপসারণের দাবিতে অধ্যক্ষের কুশ পুত্তলিকা দাহ, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও স্বারকলিপি দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।

রোববার দুপুরে জামালপুর স্টেশন ছাড়ার কিছুক্ষণ পর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের খ বগির ২নং কেবিনে আপত্তিকর অবস্থায় ছাত্রীসহ অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম চৌধুরীকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশ।

জনতার বিচারের দাবির মুখেও রেলওয়ে পুলিশ দুজনের জিম্মায় তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সাধারন মানুষ।

রোববার সন্ধ্যায় জামালপুর রেলওয়ে থানার ওসি তাপস চন্দ্র পন্ডিতের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ওই ছাত্রী কোনো অভিযোগ না করায় চলন্ত ট্রেনের যাত্রীদের পক্ষ থেকে জনসমক্ষে কেবিনের একটি কামরায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠার কথা বলেছিলেন।

এ কারণেই তিনি রেলওয়ে আইনে অধ্যক্ষ-ছাত্রী দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ওসি তাদের বিরুদ্ধে রেলওয়ে আইনে মামলা দায়ের না করে ওই রাতেই দু’পক্ষের দু’জনের জিম্মায় তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছেন।

জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাপস চন্দ্র পন্ডিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে ট্রেনের কেবিন থেকে আটক ওই ছাত্রীকে তার বাবার জিম্মায় এবং কলেজটির গভর্নিং বডির সদস্য একজন শিক্ষকের জিম্মায় অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম চৌধুরীকে ছেড়ে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, তিস্তা ট্রেনের কেবিনের একটি কামরায় অধ্যক্ষ ও ছাত্রীর ঘটনা নিয়ে সার্বিক বিষয় উল্লেখ করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে রেখেছি।

ট্রেনের কেবিনের কামরায় অধ্যক্ষ-ছাত্রীর অবস্থান নিয়ে সৃষ্ট ঘটনার প্রতিবাদে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বিক্ষুব্ধ জনতা ওই অধ্যক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে।

সোমবার দুপুরে ওই প্রতিষ্ঠানের সামনে মানববন্ধন ও অধ্যক্ষের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে তারা একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।

জানা গেছে, ট্রেনের কামরায় অধ্যক্ষ ও ছাত্রীর ওই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের শত শত মানুষ সোমবার বেলা দেড়টার দিকে জে জে কে এম গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধনে অংশ নেয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মোজাহারুল হক, নাজমুন নাহার, হানিফ উদ্দিন, রাহাত হোসেন পাহলোয়ান, রকিব চৌধুরী, উজ্জ্বল সরকার, রুহুল আমিন, মনির হোসেন, জিয়াউল হক প্রমুখ।

বক্তারা ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম চৌধুরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাকে অধ্যক্ষের পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান।

ট্রেনটির যাত্রীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রেলওয়ে থানা পুলিশ অধ্যক্ষকে আটক করেও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের না করায় তারও সমালোচনা করেন বক্তারা।

পরে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-যুবকরা ওই অধ্যক্ষের দুটি কুশপুত্তলিকা পোড়ায়। মানববন্ধন শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে সেখানেও তারা প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। পরে তারা ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন।

এসএসসি পরীক্ষায় জে জে কে এম গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করার কথা অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম চৌধুরীর।

আন্দোলন প্রতিবাদের মুখে তাকে কেন্দ্র সচিব থেকে অব্যাহতি দেয়। তার পরিবর্তে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা কামরুল হাসান দায়িত্বপালন করেন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ইসলামপুর জে জে কে এম গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ট্রেনের কেবিনের একটি কামরায় অধ্যক্ষ ও এক ছাত্রীর অবস্থান নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রোববার রাতেই অধ্যক্ষকে তার কেন্দ্র সচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে জরুরি বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। সেই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগেও অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম একধিক নারী কেলেংকারীর ঘটনা ঘটিয়ে জনতার হাতে ধরা পরে অর্থদণ্ড দিয়ে পার পেয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারী সংক্রান্ত দুটি মামলাও রয়েছে। তার কর্মক্ষেত্র ইসলামপুরের জে জে কে এম গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে তার নারী কেলেংকারী নিয়ে ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অভিভাবকদের মধ্যে র্দীঘদিন ধরে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

তার প্রভাব ও প্রমানের অভাবে কেউ টু শব্দটি করার সাহস পায়নি। এখন ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকসহ নানা মহল মুখ খুলতে শুরু করেছে।