সাংবাদিক বন্ধু সালিম সামাদের সাথে কিছুক্ষণ

সৈয়দ শওকত জামান
সাংবাদিক নির্যাতন বিরোধী সংগঠন মুক্ত প্রকাশের টিমের জামালপুর সফরে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে মিথ্যা মামলায় কারাবরণকারী নির্যাতিত সাংবাদিক সালিম সামাদ এসেছিলেন। সাংবাদিক নির্যাতন বিরোধী মত বিনিময়ের ফাঁকে আমাদের কষ্ট কিছুক্ষণের জন্য দূর করে আমাদের মুখে হাঁসি ফুটিয়েছিলেন এই চির সবুজ চির তরুণ।

প্রাণচাঞ্চল্য হাসিখুশিতে আমাদের জমিয়ে রেখেছিলেন সাদা মনের মানুষটি। খুব অল্প সময়ে আপন করে নিয়েছিলেন। ভালবাসায় বেঁধেছিলেন আমাদের। ভালবাসায় বাঁধনে অপার শক্তি আকর্ষণ তার মধ্যে খেয়াল করেছি। রসিকও বটে।

সত্যিকারের সাংবাদিক দরদী এক নেতার সান্নিধ্য পেয়েছিলাম। তার বন্ধুসুলভ আচরণে আমরা সাংবাদিকরা মুগ্ধ।জামালপুর প্রেসক্লাবের পক্ষে আমি ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর সময়, তোমারও চুল নেই আমারও চুল নেই,

দুজনের একেবারে মিললা গেছে, দুই চাইন্দা বলে সার্কিট হাউজের মিলনায়তনে মতবিনিময় সভার প্রারম্ভে এক পসলা হাসিতে মাতিয়ে দৃষ্টি কাড়লেন উপস্থিতদের।

সাংবাদিকের সাথে মত বিনিময়ের পর খাবার আগে সার্কিট হাউসের বাগানের সামনে বারান্দায় আমাদের সাথে খোশগল্প চলাকালে স্মৃতি ধরে রাখতে সালিম সামাদ ভাইয়ের সাথে ছবি তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করলে আমাদের চেয়ে তিনি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠলেন।

বললেন, বাগানের দৃশ্য রেখে আসো ছবি তুলি। বারান্দায় তার পাশে দাঁড়ালাম আমি, বিটিভির সাংবাদিক মোস্তফা বাবুল ও জামালপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এটিএন বাংলার সাংবাদিক লুৎফর রহমান।

দাঁড়ালাম পিছনে বাগানের ব্যাকগ্রাউন্ড রেখে। শেষ বিকেলের রোদ দুষ্টুমি করছিল। উঁকি দিয়ে ছবিতে কালো ছায়া ফেলে। সালিম সামাদ ভাই দু’ একটি ছবি তোলার পর বলে উঠলেন, ছবি কালো হচ্ছে, চলো, বাগানের ভেতর গিয়ে ছবি তুলি।

ভালো আলো পাওয়া যাবে। আমাদের ৩ জনকে নিয়ে ছবি তোলার উদ্দেশে রওনা দিতেই দু’ একজন বলে উঠেন, অনেক লম্বা রোড জার্নি করে এসেছেন, শরীর খারাপ লাগছে, একটু খেয়ে বিশ্রাম নিন।

কোথায় খারাপ লাগছে, আমার তো খারাপ টারাপ লাগেনা। তারুণ্য প্রাণশক্তিতে আমাদের নিয়ে বাগানের দিকে রওনা দেয়ার চেষ্টার সময় উপস্থিতদের পিড়াপিড়িতে ডাইনিংয়ে খাবারের জন্য গেলেন। ঝটপট খেয়ে সার্কিট হাউজে সামনে খোলা জায়গায় সাংবাদিকদের সাথে খোশগল্পে অংশ নিলেন।

একফাঁকে খাবারের আগে স্থগিত থাকা ইচ্ছা প্রকাশ করার সাথেই ছবির জন্য দাঁড়ানোর মুহুর্তেই টুল আনো, আমার টুল লাগবে।

তোমার পাশে ছবি তুলতে গেলে। বলতেই ছবির মনযোগ সরিয়ে আমরাতো হেসেই খুন। ছোট ভাই পূর্বপশ্চিম ডটকমের সাংবাদিক মেহেদী হাসানের অপপো মোবাইল ক্যামেরায় দুজনে একফ্রেমে বন্দী হলাম।

জামালপুরে সাংবাদিকতা ঝুকিপূর্ণ পরিবেশ, পেশাগত দায়িত্ব ও জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যাগুলো চিন্হিত করে বলিষ্ঠ কথা বলেছেন জামালপুরের স্থানীয় জেলা, পুলিশ ও বিচার বিভাগের সাথে।

সাংবাদিক নেতারদের এমন গুণই থাকা দরকার। তাকে সশ্রদ্ধ সালাম। এই চিরসবুজ তরুণটি হাজার বছর বেঁচে থাকুক সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার জন্য। ভালবাসা রইলো।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী