প্রথম দিনই অলআউট হলো বাংলাদেশ

বাংলাবাজার পত্রিকা
রাওয়ালপিন্ডি: পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের প্রথম দিন অলআউট হলো সফরকারী বাংলাদেশ। টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং-এ নেমে ৮২ দশমিক ৫ ওভার খেলে ২৩৩ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। আলো স্বল্পতার কারনে দিনের শেষ ভাগে আর ব্যাট করতে নামেনি পাকিস্তান।

সিরিজের প্রথম টেস্টে টস ভাগ্যে জয় পান পাকিস্তানের অধিনায়ক আজহার আলী। প্রথমে বোলিং করার সিদ্বান্ত নেন তিনি।

বাংলাদেশের পক্ষে ইনিংস শুরু করেন তামিম ইকবাল ও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা সাইফ হাসান।পাকিস্তানের পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির প্রথম বলেই মিড উইকেট দিয়ে ৩ রান আদায় করে নেন তামিম।

ফলে স্ট্রাইক পান বাংলাদেশের ৯৬তম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট খেলতে নামা সাইফ। তবে ইনিংসের তৃতীয় বলে আউট হন ২১ বছর বয়সী ডান-হাতি ব্যাটসম্যান সাইফ।

দ্বিতীয় স্লিপে আসাদ শফিককে ক্যাচ দিয়ে দলীয় ৩ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরেন সাইফ। পরের ওভারে সাইফের পথ অনুসরণ করেন তামিমও। আরেক পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের বলে লেগ বিফোর হন তামিম। রিভিউ নিয়েও বাঁচাতে পারেননি তিনি।

৩ রান করেন গেল সপ্তাহে শুরু হওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম রাউন্ডে ইস্ট জোনের হয়ে অপরাজিত ৩৩৪ রান করা তামিম।

৩ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত ও অধিনায়ক মোমিনুল হক।

কোন ঝুঁকি না নিয়ে সর্তকতার সাথে খেলতে থাকেন দু’জনে। উইকেটের সাথে মানিয়ে নিতেই বেশি মনোযোগি হন শান্ত-মোমিনুল।

তাই ১০ ওভার পর্যন্ত বলকে একবারের জন্যও সীমানা ছাড়া করতে পারেননি শান্ত-মোমিনুল।

১১তম ওভারের পঞ্চম বলে ইনিংসের প্রথম চার মারেন মোমিনুল। বোলার ছিলেন পাকিস্তানের ১৬ বছর বয়সী ডান-হাতি পেসার নাসিম শাহ।

আর ১৪তম ওভারের চতুর্থ বলে ইনিংসে নিজের প্রথম বলকে সীমানা ছাড়া করেন শান্ত। এবার বোলার ছিলেন আফ্রিদি।

তারপরও রান তোলায় তাড়াহুড়া করেননি শান্ত-মোমিনুল। বড় জুটি গড়ার পরিকল্পনা করেন দু’জনে। এতে সাফল্যের দিকেই ছুটচ্ছিলেন শান্ত-মোমিনুল। তাই দলও পেয়ে যায় হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ।

দলের রান পঞ্চাশ পার করে স্কোর বোর্ড শক্তপোক্ত করছিলেন শান্ত-মোমিনুল। কিন্তু ২২তম ওভারে বিদায় দেন মোমিনুল। আফ্রিদির দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৩০ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার ৫৯ বলের ইনিংসে ৫টি চার ছিলো।

তৃতীয় উইকেটে ১২২ বলে ৫৯ রান যোগ করেন শান্ত-মোমিনুল। মোমিনুল ফিরলে ক্রিজে যোগ দেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

সেট ব্যাটসম্যান শান্তকে নিয়ে রানের চাকা ঘুড়াতে থাকেন তিনি। মধ্যাহ্ন-বিরতির আগ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন থাকেন শান্ত-মাহমুদুল্লাহ।

৩৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৫ রান নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। শান্ত ৬টি চারে ১০৪ বলে ৪৪ ও মাহমুদুল্লাহ ৩টি চারে ২৯ বলে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

বিরতি থেকে ফেরার পর প্রথম ওভারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় শান্ত-মাহমুদুল্লাহর জুটি। তামিমকে শিকার করা আব্বাস পাকিস্তানকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন।

১১০ বলে ৬টি চারে ৪৪ রান করা শান্তকে থামান আব্বাস। মাহমুদুল্লাহর সাথে ৭৩ বলে ৩৩ রানের জুটি গড়েছিলেন শান্ত। শান্ত ফিরে যাবার কিছুক্ষণ বাদে আউট হন মাহমুদুুল্লাহও। আফ্রিদির তৃতীয় শিকার হন তিনি।

৪টি চারে ৪৮ বলে ২৫ রান করেন মাহমুদুল্লাহ। দলীয় ১০৭ রানে মাহমুদুল্লাহ পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে প্যাভিলিয়নে ফিরেন। এরপর দলের শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে মিঠুনের সঙ্গী হন উইকেটরক্ষক লিটন দাস।

পাকিস্তানের বোলারদের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুলে জমিয়ে যায় জুটিটি। এতে দেড়শ রানের কোটা অতিক্রম করে বাংলাদেশ।

তবে এই জুটিটিও হাফ-সেঞ্চুরির পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ৭টি চারে বড় ইনিংস খেলার ইঙ্গিত দেয়া লিটন ৩৩ রানে বিদায় নেন। ৪৬ বল মোকাবেলা করে লেগ বিফোর হন লিটন। বাঁ-হাতি স্পিনার হারিস সোহেলের প্রথম শিকার হন তিনি।

অবশ্য পাকিস্তানীদের লেগ বিফোর আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। কিন্তু রিভিউতে লিটনের বিদায় নিশ্চিত হয়।

৯১ বল মোকাবেলা করে ৫৪ রানের জুটি গড়েন মিঠুন-লিটন। দলীয় ১৬১ রানে লিটন আউট হলে, টেল-এন্ডার ব্যাটসম্যান তাইজুল ইসলামকে নিয়ে লড়াই শুরু করেন মিঠুন। বেশ সর্তকতার সাথে খেলতে থাকেন দু’জনে। তাই চা-বিরতির আগে আর কোন উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ।

৬৩ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭২ রান নিয়ে চা-বিরতিতে যায় টাইগাররা। মোহাম্মদ মিঠুন ৩০ ও তাইজুল ইসলাম ১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন।

বিরতির পরও ব্যাট হাতে নিজেদের সেরাটা দিতে থাকেন মিঠুন-তাইজুল। তাই ৭৫তম ওভারে দুইশ রান পেয়ে যায় বাংলাদেশ।

মোমিনুল-শান্ত ও মিঠুন-লিটনের জুটির মত মিঠুন-তাইজুল হাফ-সেঞ্চুরির পরই বিচ্ছিন্ন হন। জুটিতে ১৪০ বলে ৫৩ রান যোগ হয়।

৪টি চারে ৭২ বলে ২৪ রান করেন তাইজুল। তাকে শিকার করেন সোহেল। তাইজুলের বিদায়ের পরের ওভারে ৮ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন মিঠুন। পাকিস্তানের লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহকে বাউন্ডারি মেরে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মিঠুন।

হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরের ডেলিভারিতেই ইনিংসের একমাত্র ও প্রথম ছক্কা মারেন ২২ রানে জীবন পাওয়া মিঠুন।

এই ইয়াসিরের বলে সোহেলকে ক্যাচ দিয়ে বাঁচেন মিঠুন। এরপর নয় নম্বর ব্যাটসম্যান রুবেল হোসেনকে ব্যক্তিগত ১ রানে বোল্ড করেন আফ্রিদি। আর ৮২তম ওভারে দলীয় ২৩৩ রানে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে মিঠুনকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান নাসিম।

৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৪০ বলে ৬৩ রান করেন মিঠুন। মিঠুনের ফিরে যাবার ৮ বলই পরই অলআউট হয় বাংলাদেশ।

রান আউট হয়ে শুন্য রানে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরেন আবু জায়েদ। শুন্য রানে অপরাজিত থাকেন শেষ ব্যাটসম্যান এবাদত হোসেন।

পাকিস্তানের আফ্রিদি ৫৩ রানে ৪টি উইকেট নেন। এছাড়া আব্বাস-সোহেল ২টি করে এবং নাসিম ১টি উইকেট নেন।

স্কোর কার্ড (প্রথম দিন শেষে) :
তামিম ইকবাল এলবিডব্লু ব আব্বাস ৩
সাইফ হাসান ক আসাদ ব আফ্রিদি ০
নাজমুল হোসেন শান্ত ক রিজওয়ান ব আব্বাস ৪৪
মোমিনুল হক ক রিজওয়ান ব আফ্রিদি ৩০
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ক আসাদ ব আফ্রিদি ২৫
মোহাম্মদ মিঠুন ক রিজওয়ান ব নাসিম ৬৩
লিটন দাস এলবিডব্লু ব সোহেল ৩৩
তাইজুল ইসলাম ক ইয়াসির ব সোহেল ২৪
রুবেল হোসেন বোল্ড ব আফ্রিদি ১
আবু জায়েদ রান আউট (আব্বাস) ০
এবাদত হোসেন অপরাজিত ০
অতিরিক্ত (বা-৬, নো-৩, ও-১) ১০
মোট (অলআউট, ৮২.৫ ওভার) ২৩৩

উইকেট পতন: ১/৩ (সাইফ), ২/৩ (তামিম), ৩/৬২ (মোমিনুল), ৪/৯৫ (শান্ত), ৫/১০৭ (মাহমুদুল্লাহ), ৬/১৬১ (লিটন), ৭/২১৪ (তাইজুল), ৮/২২৯ (রুবেল), ৯/২৩৩ (মিঠুন), ১০/২৩৩ (জায়েদ)।

পাকিস্তান বোলিং :
শাহিন শাহ আফ্রিদি : ২১.৫-৩-৫৩-৪ (ও-১, নো-২),
মোহাম্মদ আব্বাস : ১৭-৯-১৯-২,
নাসিম শাহ : ১৬-৩-৬১-১ (নো-১),
ইয়াসির শাহ : ২২-২-৮৩-০,
হারিস সোহেল : ৬-২-১১-২।