সেলিম মণ্ডলের পঞ্চব্যঞ্জন

যুদ্ধকালীন

ছায়া ফেলে, বীজ ফেলে
সীমান্ত পেরিয়ে যায় যে পাখিটি
তার ডানায় জাতীয় পতাকা বাঁধা নেই

এত আওয়াজ, এত হুঙ্কার
হৈ হৈ রৈ রৈ…
মায়ের বুক থেকে ঝরে পড়ে দুধ

চেটে খায়, চেটে খায় ঝড়ের রাতে

কোন বিড়াল তুমি পুষেছ রাষ্ট্র?

আকাশ নেই, বৃষ্টির ইতর শব্দ
ম্যাও ম্যাও, ম্যাও ম্যাও, ম্যাও ম্যাও…

মিছিমিছি কান্না

মাছেদের যৌনতায় জলের বিরাট ভূমিকা আছে
জল জানে, তুমি কি জানো?

কানকোর গর্ভেই কেটে যায় ইতিউতি
সাঁতার, অদ্ভুত এক সাঁতার
ডুবিয়ে দিতে পারে জেনে— আমাদের মিছেমিছি কান্না
তরল, আরও তরল

কবিপুত্র

ঘুমের ঘোরে বাবা ভয় পেয়ে আঁতকে ওঠে
আমি পাশের ঘরে থাকি
একবারের জন্যও পারি না তাঁর সামনে দাঁড়াতে

আমি কবিপুত্র
তারপর সারারাত যদি স্বপ্নে আমায় দেখে?

ছবি

শীত আসলে মনে পড়ে—
একটা বুড়ি-সকাল খেঁজুর রসের ভিতর
হাবুডুবু খাচ্ছে
আর শহর তার ফুরিয়ে যাওয়া যৌনতা নিয়ে
নিজেদের তলপেটে আঁকছে
কাঁটাআলা মাছের ছবি চুপিচুপি

কুসুমের অন্ধকার


ডিম ফুটে ওঠার আগেই
কুসুম ফুটিল

গাছে গাছে পাখিদের আনন্দ, ব্যাধের হাহাকার


কুসুম জানে না
তার ফুটে ওঠার গল্পে

তির তির রক্ত আর ছলাৎ ছলাৎ কান্না
ওই ‘দারুচিনি দ্বীপ’কেও ভিজিয়ে দিতে পারেনি


কুসুম গলাধঃকরণ অতি কঠিন কাজ
তবুও জলের জানাজায়
পাখির খোঁজ কে রাখে?