কালের আবর্তে হারিয়ে গেছে চিঠির আবেদন!

সৈয়দ শওকত জামান
যাবার বেলায় হাত দুটি ধরে বলেছিলে চিঠি দিও। বলেছিলে তাই চিঠি লিখে যাই, কথার মেলায় ভালবাসার ছোঁয়ায়। মন বলে তুমি রয়েছো যে কাছে,আখিঁ বলে কতদুরে। র্দীঘ সময়ের অপেক্ষা প্রিয়জনের খবর জানতে।

চিঠি আসবে, চিঠির অপেক্ষায় বসে থাকে প্রিয় মানুষেরা। দুর-দুরান্ত থেকে কত শত আনন্দ বেদনার খবর বয়ে নিয়ে আসতো চিঠি।

প্রিয়জনের চিঠি, সন্তানের চিঠি, মা-বাবার চিঠির অপেক্ষার প্রহর গুনতো। মেঠোপথ ধরে সাইকেলের বেল বাজিয়ে ঝোলায় চিঠি নিয়ে খাকি পোষাকে আসছে ডাক পিয়ন।

দেখেইে প্রেমিকা,গৃহবধু ও বাবা মা ছুটে যাচ্ছে পিয়নের কাছে। ছেলের চিঠি পেয়ে বাবা মায়ের চোখে আনন্দ অশ্রু।

বাইরে থাকা স্বামীর চিঠি হাতে পেয়ে উচ্ছাসে কোমর দুলিয়ে দৌড়ে গিয়ে গাছের তলে বসে খাম খুলে আবেগে উদ্বেলিত হয়ে পড়ছে কাংখিত চিঠি আপন মনে।

গ্রাম বাংলার চিরচায়িত দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। চিঠি নাম লিখিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। হারিয়ে গেছে হলুদ খামের চিঠির যুগ। চিঠির সঙ্গে হারিয়ে গেছে এক সময়ের জনপ্রিয় খোলা ডাক বা পোস্টকার্ডও।

মনের ভাব বিনিময়ের জন্য চিঠি ও পোস্টকার্ড হরহামেশা ব্যবহার হলেও নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেনা এক সময়ের জনপ্রিয় যোগাযোগের মাধ্যমটি।

ইতোমধ্যে পুরনো জৌলুস হারাতে বসেছে ডাক বিভাগ। সময়ের স্রোতে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনমান। সেই সাথে চিঠি লেখার জায়গাটি এখন দখল করেছে মোবাইল ফোনের ক্ষুদে বার্তা, ইমেইল, টুইটার বা ফেসবুকের চ্যাটিং।

প্রিয়জনদের সঙ্গে বলার জন্য কেউ কেউ বেছে নিচ্ছেন ইমু, ভাইভার, হোয়াইটস এ্যাপস বা স্কাইপির মতো প্রযুক্তি। ঝামেলাহীন ও দ্রুততার সঙ্গে মানুষের সংযোগ পেলেও অপেক্ষার চিঠির আবেগ দ্রুত যোগাযোগে নেই।

অথচ রাত জেগে প্রিয়জনের জন্য চিঠি লেখা, লুকিয়ে প্রিয়জনের চিঠি বার বার পড়ে আপন মানুষের স্মরণে আনন্দ আজো উদ্বেলিত করে অনেককেই।

বাংলা সাহিত্যের বিশাল অধ্যায়জুড়ে আজও অবস্থান করছে পত্র সাহিত্য। সাইকেলের বেল বাজিয়ে ডাক পিয়নের চিঠি এসেছে…

চিঠি এমন কথাও শোনা যায় না। এখন আর সেই আগেরকার দিনের মতো পিয়নের পানে চেয়ে থাকতে হয় না প্রিয়জনদের। এসবই ভেসে গেছে ডিজিটালের ভেলায়।  চিঠি শুন্য এখন ডাকঘর।

লেখক: সাংবাদিক