ভোটারদের কেন্দ্রে ফেরানোর উদ্যোগ!

বাংলাবাজার ডেস্ক
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় হাইকমান্ড।

কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য এরই মধ্যে বার্তা পাঠানো হয়েছে। ঢাকার দুই সিটিতে দুই মেয়রসহ সাধারণ ওয়ার্ডে ১২৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিজয়ী কাউন্সিলরের সংখ্যা ৯৮ জন।

আর সংরক্ষিত ৪৩টি আসনের মধ্যে মধ্যে ৩৪ জনসহ মোট ১৩২ জন জয়ী হয়েছেন। ১৬ জন বিদ্রোহী কাউন্সিলর জয়লাভ করেছেন, বাকিরা অন্য দল বা নির্দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থী। কিন্তু নির্বাচনে পোল্ড ভোটের সংখ্যা শতকরা ৩০ ভাগেরও কম।

যা ক্ষমতাসীনদের জন্য বেশ বিব্রতকর। এ ছাড়া বিরোধীপক্ষ এটার তীব্র সমালোচনা করছে। আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড বিরোধী পক্ষকে এই ইস্যুতে আর কোনো সুযোগ দিয়ে চায় না।

এরই মধ্যে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শুক্রবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন,

ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কমিটির তালিকা দলীয় দপ্তরে ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। আর যেসব জেলায় যাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের এপ্রিলের মধ্যে সম্মেলন শেষ করতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটিতে ২ হাজার ৪৬৮টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের ইউনিট কমিটি থাকার কথা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মহানগরীর প্রতি ইউনিটে ৩৭ সদস্যের কমিটি করার কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় ৯১,৩১৬ পদধারী নেতা থাকার কথা রয়েছে।

এই নেতারা বিভিন্ন মহল্লায় সরাসরি ভোট কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন—এ ছাড়া সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- মহিলা আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ,

যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতী লীগ, যুব মহিলা লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও শ্রমিক লীগের মতো সংগঠন।

সেগুলোরও মহানগরীর প্রতি ইউনিটে কমিটি থাকার কথা, আছেও মনে করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এসব কমিটির মধ্যে বহু অনুপ্রবেশকারী রয়েছে, যাদের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড আওয়ামী লীগ নয়। বর্তমান কমিটিতে এখনো অনেকে আছেন, যারা অতীতে আওয়ামী লীগের নীতির
বিরোধী অবস্থানে ছিলেন।

ফলে পোড় খাওয়া আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাদের চেহারা দেখলে ভোট কেন্দ্রেও যেতে চান না। শহরে এই সমস্যা খুব প্রকট হলেও গ্রামে তুলনামূলকভাবে এটার প্রভাব কম।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহল মনে করছে, এমন বাস্তবতায় ইউনিট কমিটিগুলোতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় সকল পদে পুরাতন আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থদের সমাবেশ ঘটাতে হবে।

তা না হলে আগামী নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এখন থেকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম মোট ভোটারের মাত্র ১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশের সমর্থন নিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণে মোট ভোটারের ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশের সমর্থন নিয়ে মেয়রের দায়িত্ব নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস।

ভোট পড়ার হার উত্তরে ২৫ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং দক্ষিণে ২৯ শতাংশ। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এবার কমসংখ্যক ভোটারের সমর্থন নিয়ে মেয়রের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের দুই প্রার্থীকে।

ভোটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ক্রমে ভোটের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমছে। তবে সর্বশেষ এই ভোটের হার নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকে।