রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি নিয়ে নতুন সঙ্কট!

Rohinga-BBP
গণহত্যা শুরুর পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা - ফাইল ফটো

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক:প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে এদেশে প্রবেশ করা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সহায়তায় আন্তর্জাতিক সহায়তা দিন দিন কমে আসছে।

রোহিঙ্গারা এদেশে ঢোকার পর থেকে প্রতিবছরই এ দেশে জাতিসংঘের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) তৈরি করা হয়। কিন্তু তাতে অর্থায়নের যে প্রাক্কলন করা হচ্ছে, তা জোগাড় করার চ্যালেঞ্জ ক্রমাগত বাড়ছে।

এমনিতেই কোনোবারই চাহিদা অনুযায়ী অর্থের সম্পূর্ণ জোগান আসেনি। তার ওপর এখন তার পরিমাণ কমতে থাকায় চ্যালেঞ্জ প্রকট আকার ধারণ করেছে।

জেআরপিতে সহায়তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বই এখন পর্যন্ত সিংহভাগ অর্থের জোগান দিচ্ছে। কিন্তু সহায়তার ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না।

ইন্টার সেকশন করপোরেশন কো-অপারেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

আইএসসিজি’র তথ্যমতে, বিগত ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবিলায় জাতিসংঘের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানে (জেআরপি) আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ ছিল ৭৩ শতাংশ।

চলতি বছরের শেষে ওই পরিমাণ নেমেছে ৬৭ শতাংশে। অর্থাৎ গত দু’বছরে সার্বিকভাবে সহায়তার পরিমাণ ৬ শতাংশ কমেছে। চলতি বছর রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্কট মোকাবেলায় ৯২ কোটি ডলারের চাহিদা ছিল।

কিন্তু গত ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৬২ কোটি ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ চলতি বছর মোট চাহিদার মাত্র ৬৭ শতাংশ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। তার আগে ২০১৮ সালে ৯৫ কোটি চাহিদার বিপরীতে সাড়ে ৬৫ কোটি ডলার পাওয়া গিয়েছিল।

যা ওই বছরের চাহিদার ৬৯ শতাংশ। তবে চাহিদার তুলনায় জোগান সবচেয়ে বেশি এসেছিল ২০১৭ সালে, মোট চাহিদার ৭৩ শতাংশ। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে সহায়তার পরিমাণ এভাবে কমতে থাকলে সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশের ব্যয় বেড়ে যাবে।

এদিকে ২০১৯ সালের জেআরপিতে চারটি খাতে বিশেষ নজর দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেগুলো হচ্ছে- খাদ্য নিরাপত্তা, দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা, শিক্ষা ও যোগাযোগ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কাছে সেগুলোসহ মোট ১৭টি প্রয়োজন নির্ধারণ করে সহায়তা চাওয়া হয়।

জেআরপি অনুযায়ী উখিয়া ও টেকনাফের ৩ লাখ ৩৬ হাজার স্থানীয় ও ৯ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা অর্থাৎ মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার জনকে খাদ্য নিরাপত্তার আওতায় আনতে প্রয়োজন ছিল ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

পাওয়া গেছে এর ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৯ কোটি ডলার। ডাব্লুএএসএইচ (ওয়াশ) প্রকল্পে জনগোষ্ঠীর সাড়ে ১২ লাখ জনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

তার বিপরীতে পাওয়া গেছে মাত্র ৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজন ছিলো ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। কিন্তু পাওয়া গেছে সাড়ে চার কোটি ডলার, স্বাস্থ্য খাতে আট কোটি ৯০ লাখ ডলারের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া গেছে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার।

সাইট ব্যবস্থাপনার জন্য ৯ কোটি ৯০ লাখের বিপরীতে পাওয়া গেছে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। দুর্যোগ থেকে সুরক্ষার ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বিপরীতে পাওয়া গেছে সাড়ে ৩ কোটি ডলার।

শিক্ষার জন্য ৫ কোটি ৯০ লাখের বিপরীতে মিলেছে ৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। পুষ্টির জন্য ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া গেছে এক কোটি ৭০ লাখ ডলার। কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এক কোটি ১০ লাখ ডলার চাহিদার বিপরীতে পাওয়া গেছে ৩২ লাখ ডলার।

সমন্বয় কার্যক্রমের জন্য ৪২ লাখ ডলারের বিপরীতে ৫ লাখ ১৩ হাজার ডলার এবং সরবরাহের জন্য ২৮ লাখ ডলারের চাহিদার বিপরীতে ৭ লাখ ২৭ হাজার ডলার পাওয়া গেছে। শুধু জরুরি প্রয়োজনের ১১ লাখ ডলারের চাহিদার বিপরীতে শতভাগ অর্থায়ন মিলেছে।

গত বছর রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। তবে ২০২০ সালের জেআরপিতে স্বাস্থ্যসেবায় অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

ইতিমধ্যে জেআরপি ২০২০-এর খসড়া প্রায় প্রস্তুত। এবারও গত বছরের প্রায় সমপরিমাণ কিংবা কিছু বেশি ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে।

শিগগিরি তা প্রকাশ করে বিশ্বের কাছে সঙ্কট মোকাবেলায় সহযোগিতা চাওয়া হবে।
অন্যদিকে আইএসসিজির প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি বছর ২৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার সহযোগিতা দিয়ে চাহিদার সিংহভাগেরই জোগান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

অর্থ সহায়তায় দ্বিতীয় স্থানে যুক্তরাজ্য এবং তৃতীয় স্থানে জাপান অবস্থান করছে। তার পরেই রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২০১৮ সালেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই মোট চাহিদার সিংহ ভাগ ৩৬ শতাংশ (২৪ কোটি ডলার) এসেছিল।

রাশিয়া মাত্র ১০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দিলেও চীন জেআরপিতে কোনো ধরনের সহায়তা দেয়নি। আর মুসলিম বিশ্বের ধনী দেশগুলো থেকে যে ধরনের সহায়তা প্রত্যাশিত ছিল, তা কোনো বছরই পাওয়া যাচ্ছে না।সহায়তার জন্য মূলত পশ্চিমা বিশ্ব এবং জাপানের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।