বিশ্বজয়ের আনন্দে ভাসছে দেশ

বাংলাবাজার পত্রিকা
খেলা: ক্রিকেট মানেই উন্মাদনা। ক্রিকেট মানেই উৎসব। আর উৎসবের এই খেলার সর্বোচ্চ অর্জন এখন বাংলাদেশের। হোক না সেটা যুবাদের।

যুব বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসছে গোটা দেশ। পথে পথে উন্মাদনা। সারাদেশে হাতে হাতে জাতীয় পতাকা।

বিশ্বজয়ের আনন্দ আর দেশপ্রেমের জোয়ারে উদ্বেলিত হয়ে মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে তরুণ-তরুণীর উল্লাস এখন অঘোষিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

মাথায় জাতীয় পতাকা আর বুকে চেতনা নিয়ে ‘বাংলাদেশ’ ‘বাংলাদেশ’ স্লোগানে চারদিক মুখরিত করছে সবাই। এর মধ্যে আবার ঠাণ্ডা মাথার অধিনায়ক আকবর আলীর জন্য রংপুরের আনন্দটা যেন ছিল একটু বেশিই।

যদিও খেলার মাঠে আকবরের শরীরী ভাষায় আগ্রাসন নেই। ঠাণ্ডা মাথায় দলকে নেতৃত্ব দিতেই তিনি পছন্দ করেন।

অধিনায়ক হিসেবে সামনে আসার তুলনায় আকবর আলী সাফল্যের নেপথ্যে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। সেই আকবর আলীর হাত ধরেই আঠারোর ঔদ্ধত্যকে বশে রেখে প্রথমবার বিশ্বকাপ পেল বাংলাদেশ।

এ জয়ে দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সব মহলের প্রশংসায় ভাসছে খুদে টাইগাররা।

এ জয়ের ফলে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস তৈরি হলো। আইসিসির বিশ্ব আসরে এটাই প্রথম শিরোপা।দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এত বড় ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। তাই এই আনন্দে গোটা দেশ ভাসছে।

রাজধানীর টিএসসিতে তরুণ-যুবকদের আনন্দ-উল্লাসে রাতের আঁধারও যেন কেটে গিয়েছিল। চারপাশ অনুরণিত হচ্ছিল আনন্দের মূর্ছনায়।

তালে-বেতালে নাচছিলেন হাজারো শিক্ষার্থী। বাঘের পুতুল নিয়েও হাজির ছিলেন কেউ কেউ। টিএসসির এ ছবি যেন একসঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠা গোটা বাংলাদেশেরই চিত্র।

এর আগে খেলার মাঠে অথর্ব আঙ্কোলেকরের বলটা মিড উইকেটে ঠেলেই ব্যাট উঁচিয়ে ছুটতে শুরু করে দিলেন রাকিবুল হাসান।

ডাগ আউট থেকে মাহমুদুল হাসান জয়, তৌহিদ হূদয়রা তত ক্ষণে মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়েছেন। এত দিন পর বাংলাদেশের অধরা স্বপ্ন সত্যি হলো।

এ রকম একটা জয়ের জন্যই তো প্রতীক্ষায় ছিল গোটা দেশ। সাকিব আল হাসান, মেহেদি হাসান মিরাজরা যা করে দেখাতে পারেননি।

আকবর আলীরা তা-ই করে দেখালেন। ২৩ বল বাকি থাকতে তিন উইকেটে ভারতকে হারাল বাংলাদেশ।