চার ভাগে বিভক্ত হবে ঢাকা!

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকাকে ভাগ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসনকে চার ভাগে ভাগ করা হবে।

আর তাতে নিয়োগ পেতে পারেন ৪ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি)। মূলত মানসম্মত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতেই এমন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

পর্যায়ক্রমে অধিক জনসংখ্যা-অধ্যুষিত জেলাগুলোও ভাগ করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে একটি ধারণাপত্র তৈরি করে তা সেবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামতসহ রূপরেখা প্রণয়ন করছে।

নতুন ধারণাপত্রে বদলে দেয়া হয়েছে ঢাকার প্রশাসনিক অবয়ব। ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিম এই চারটি জোনে ভাগ করে নগরবাসীকে সেবা প্রদান করা হবে।

২০৩০ সালের মধ্যে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পৌঁছার লক্ষ্যে মানসম্মত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ভূমিসহ নাগরিকসেবা প্রদানের জন্য একটি ১৫ থেকে ২০ তলা ভবন স্থাপনের চিন্তা করা হচ্ছে।

ওই সেন্টার থেকে ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে দেয়া হবে নাগরিক সেবাসমূহ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, কাজের পরিধি বিবেচনায় দেশের অন্য যে কোনো জেলার চেয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাজের পরিধি অনেক বেশি।

তাই যথাযথ নাগরিকসেবা প্রদানে অন্য যে কোনো জেলার চেয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের জনবল ও অবকাঠামো বেশি দরকার।

বর্তমানে ঢাকা মহানগরীর জনসংখ্যা দেড় কোটিরও বেশি। তবে ভাসমান বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষসহ ঢাকা জেলার জনসংখ্যা প্রায় পৌনে দুই কোটি।

এই জনসংখ্যা দেশের সবচেয়ে ছোট জেলা মেহেরপুরের জনসংখ্যার তুলনায় প্রায় ২৫ গুণ। গাজীপুর জেলার তুলনায় ৭ গুণ।

কুমিল্লা জেলার তুলনায় ৪ গুণ, চট্টগ্রাম জেলার তুলনায় প্রায় ৩ গুণ এবং ময়মনসিংহ জেলার তুলনায় ৪ গুণ।শুধু তাই নয়, কোনো কোনো জেলার তুলনায় ১০ থেকে ১৫ গুণ জনসংখ্যা রয়েছে।

অথচ অন্যান্য জেলাসমূহের জনগণকে সরকারি সেবাপ্রদানে যেসব প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত সুবিধা রয়েছে, তার চেয়ে ঢাকা জেলায় কিছুটা বেশি সুযোগ-সুবিধা থাকলেও জনসংখ্যা অনুপাতে তা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।

সূত্র জানায়, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের পর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যে মানসম্মত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে কাজের জন্য ঢাকামুখী থামানোর জন্য ঢাকার মতো বিভাগীয় শহরগুলোতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

ঢাকার যানজট নিরসনে বিভাগীয় শহরগুলো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা কার্যকরে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে ঢাকায় প্রতি কিলোমিটারে সব চেয়ে বেশি। বর্তমানে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যেসব কাজ করা হয় তার মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বিতরণ,

তাদের সনদ যাচাই বাছাই, বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মৃত্যুজনিত অনুদান, বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলা,

সারের ডিলার নিয়োগ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সনদ প্রদান, প্রবাসীদের বৈবাহিক তথ্য ও অভিযোগ নিষ্পত্তি করা, এম ক্যাটাগরির ভিসা তদন্ত,

আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক পদার্থের সনদ দেয়া, যাবতীয় সরকারি আধাসরকারি বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অনাদায়ি রাজস্ব আদায়,

অধিগ্রহণ করা ভূমির অ্যাওয়ার্ড তৈরি এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান, ইট পোড়ানোর লাইসেনস প্রদান ও নবায়ন, আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁর নিবন্ধন এবং লাইসেনস ইস্যু ইত্যাদি। তাছাড়া সিনেমা হলের অনাপত্তিপত্র ও লাইসেনস প্রদান,

অ্যাসিড ব্যবহার ও বিক্রয় লাইসেনস, জুয়েলারি ডিলারের লাইসেনস প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের লাইসেনস প্রদান ও নবায়ন,

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনসহ বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনা, কৃষি, অকৃষি, অর্পিত, পরিত্যক্ত, বিনিময় জমিসহ বিভিন্ন সায়রাতমহলের দেখভাল,

ট্রেজারি ও রাজস্বসংক্রান্ত কাজ, প্রকাশনাসংক্রান্ত কাজ, দলিল অবমূল্যায়ন ও সার্টিফিকেট মামলার কাজ, স্থানীয় সরকার ও

এনজিওসংক্রান্ত কাজ, আইনশৃঙ্খলা ও প্রটোকলসংক্রান্ত কাজসহ বিভিন্ন প্রকৃতির কর্মসম্পাদন হয়ে থাকে।

সূত্র আরও জানায়, ঢাকা জেলা প্রশাসনকে দেড় কোটি জনগোষ্ঠীকে সেবাসহ অন্যান্য নির্ধারিত অনির্ধারিত সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছ।

একই সময় জনসেবার দিক বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ বিভাগের জনবল ও অবকাঠামো যথেষ্ট পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে।

ওই ক্ষেত্রে বিপুল জনগোষ্ঠীর ঢাকায় জনসেবা নিশ্চিত করা, ভূমি রাজস্ব আদায়, অন্যান্য সরকারি সেবা প্রদানের জন্য জনবল ও অবকাঠামো বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি।

ওই ক্ষেত্রে ঢাকার উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম পয়েন্টে উপসচিব/ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক/ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ৪টি পদসহ অন্যান্য জনবলের পদ সৃষ্টি করা হবে।

পৃথকভাবে ভূমি সার্কেল, তহশিল, রেজিস্ট্রেশন ও জরিপ কমপ্লেক্সসহ সেবা সংশ্লিষ্ট অন্য সব বিভাগ, দপ্তরের পর্যাপ্ত কর্মচারী নিয়ে ১৫ থেকে ২০ তলাবিশিষ্ট প্রশাসন/ওয়ানস্টপ কমপ্লেক্স স্থাপন করা হবে।

এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো পত্রের মতে, এটি একটি ধারণাপত্র। ভূমি মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ঢাকাকে তাদের চাহিদা মোতাবেক সে বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে।

ভূমিসহ সেবাসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের রূপরেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ণের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।