শরীফ আহমেদ-এর তিনটি কবিতা

একটি হাতের ইশারা
প্রায়ই একটি হাতের ইশারা ছুটে যাচ্ছে
অরণ্যের বুনো ঝংকারের দিকে
একলা রোদ সেখানে মৃদঙ্গ আলোর সাজে
অহর্নিশ গায়ে মেকাপ মাখছে।

এখানে জানালার ধারে পড়ছে
যে অগোছালো রোদ
ওদিকে বালিকার আদল পূর্ণাঙ্গ
দৃশ্যের অভাবে খাবি খাচ্ছে।

প্রায়ই একটি হাতের ইশারা
ছুটে যাচ্ছে নির্জন বনের দিকে
সাগর যেখানে পাহাড়ের সাথে
মিলেমিশে রপ্ত করছে যুগল মৌনতা।

এই লোকালয় ছেড়ে বিজন দূরে
এক অপূর্ব শৃঙ্গারে খুলে ফেলছি
আমি আমারই ভাঁজ

নরম রোদের নীচে বুদ হয়ে
বালিকাও হয়ে উঠছে বুনো উন্মাদ।

কবিদের আত্মীয়তা হয় না
কবিদের আত্মীয়তা হয় না প্রচলিত সম্পর্কের আংরাখায়।
ওরা সম্পর্কের খিস্তি ব্যাপে কর্তন
করে দিয়ে অপ্রচলন স্থান হতে উঁচু দরে
কিনে নিয়ে আসে নলখাগড়ার বন।
আর নিজ হাতে যত্নে বুলায় শৈল্পিক তুলি।
এসব দেখে মানুষের সেকি হাসাহাসি!
কেন তার চোখ পুড়েনা মামুলিক মানুষের যন্ত্রণায়।

মেঘ
মেঘকালো নারীরা ভিড় করেছে নদী সমীপে
মেঘ, আস্ত আস্ত মেঘ, ডানা ঝাপটানো একেকটি
মেঘ ভেসে চলছে নিলাদ্রীর পট বেয়ে।
উপকূলে ঘেষে আমি দাঁড়িয়ে রয়েছি
পলি সংস্কৃতির এই ভূমে।
কিছু মেঘ গর্ভবতী, কিছু মেঘ আনাড়ি খুব
আর কিছু সবেমাত্র নিজের গাত্র চিনেছে।
আমি সেসব মেঘেদের সমস্তে আবৃত করে
রাখতে চাই আমার ইচ্ছাবিলাস।
তবু একটি মেঘেরও নাম দেবো না বিবাহিতা
বরং অনূঢ়া সেসব মেঘসমুদয় অবিরত প্রেমপত্র
লিখুক গিরিশৃঙ্গকে এই আমি চাই।