উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রবি শিপন সাদিক

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: সদ্য সমাপ্ত ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তৃণমূলে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে বিএনপি। এরফলে পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

এদিকে জাতীয় সংসদের তিনটি আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত

মনোনয়ন বোর্ডে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শেষে দল মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

লন্ডন থেকে স্কাইপেতে যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করেন।

প্রার্থীদের হলেন, ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবি, বাগেরহাট-৪ আসনে কাজী খায়রুজ্জামান শিপন এবং গাইবান্ধা-৩ আসনে অধ্যাপক ডা. মাইনুল হাসান সাদিককে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী করা হয়।

এর মধ্যে ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী অনেকটা চূড়ান্ত ছিল। দলের সিদ্ধান্তে এ আসনে একজন মনোনয়নপ্রত্যাশীই

দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। সাক্ষাৎকার শেষে এ আসনের প্রার্থী হিসেবে শেখ রবিউল আলম রবিকে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়।

তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও ধানমন্ডি থানা বিএনপির সভাপতি।

শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, তিনি তৃণমূল থেকে রাজনীতির প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করে এ পর্যন্ত এসেছেন।

জনগণের সেবা করার জন্যই রাজনীতি করছেন। আর এই রাজনীতির জন্য তাকে সাতবার কারাগারে যেতে হয়েছে।

রাজনৈতিক মামলা রয়েছে দেড় শতাধিক। এরপরও তিনি জাতীয়তাবাদের আদর্শের রাজনীতিতে অবিচল রয়েছেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু হলে, নিয়মতান্ত্রিক হলে, ক্ষমতাসীন দল ও নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের ছলচাতুরি না করলে,

ভোট কেন্দ্র দখল না করলে এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হলে তিনি শুধু জয়ী হবেন না, বিপুল ভোটের রেকর্ড করবেন।

গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মাইনুল হাসান সাদিক বলেন, এর আগের উপনির্বাচনেও তাকে দলের প্রার্থী করা হয়েছিল।

এবারও দল তাকে মূল্যায়ন করেছে। দলকেও তিনি ভালো উপহার দিতে পারবেন যদি নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হয়।

কাজী খায়রুজ্জামান শিপন বলেন, তিনি দলের সিদ্ধান্তকেই তৃণমূলের সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন।

তিনি সবাইকে নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

মনোনীত তিনজনই সাংবাদিকদের বলেছেন, তারা এক প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা

এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই নির্বাচন নিচ্ছেন।

ঢাকা-১০, বাগেরহাট-৪ এবং গাইবান্ধা-৩ আসনে উপনির্বাচনে মনোনয়নের জন্য ৮ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন।

তারা হলেন, ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল ইসলাম রবি, বাগেরহাট-৪ আসনে কাজী মনিরুজ্জামান,

মনিরুল হক, কাজী খায়রুজ্জামান শিপন, ফারহানা জামান নিপা এবং গাইবান্ধা-৩ আসনে সৈয়দ মাইনুল হাসান সাদিক,

রফিকুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান সরকার।

ঢাকা-১০ আসনে শেখ ফজলে নূর তাপস সংসদ পদ ছেড়ে দেয়া, বাগেরহাট-৪ আসনে মোজাম্মেল ও

গাইবান্ধা-৩ আসনে ইউনুস আলী সরকার মৃত্যুবরণ করায় সংসদের আসনসমূহ শূন্য হয়।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী তিন আসনে উপনির্বাচনে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র ২৩ ফেব্রুয়ারি,

দাখিল বাছাই এবং ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। আগামী ২১ মার্চ ভোট গ্রহণ করা হবে।

সভায় বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ,

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।