সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে না বুয়েট

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা আগের নিয়মেই অনুষ্ঠিত হবে। বুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিলে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বুধবার রাতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বুয়েটের শিক্ষা পরিষদের সদস্য ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি জানান, বুয়েট দীর্ঘদিন ধরেই যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে আসছে, সেভাবেই পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি জানান, আগে যেভাবে হয়েছে, এবারেও সেভাবেই ভর্তি পরীক্ষা নেবেন তারা।

বুয়েট প্রথমে শিক্ষার্থীদের কাছে আবেদন আহ্বান করে। এরপর সেগুলো প্রাথমিক বাছাই করে নির্ধারিতসংখ্যক পরীক্ষার্থী নিয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেয়।

এর ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করে। এদিকে গত ২৩ জানুয়ারি দেশের সব কটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে সমন্বিতভাবে ভর্তি পরীক্ষার

প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ ৫টি বড় বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছিল।

এ জন্য তারা নতুন এ পদ্ধতিতে যাওয়ার বিষয়ে কোনো কথা দেয়নি। এর মধ্যে কিছুদিন আগেই ইউজিসির আরেক সভায় সমন্বিত পদ্ধতির পরিবর্তে কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও

বুয়েটের উপাচার্য জানান, এ বিষয়ে তাদের নিজেদের শিক্ষা পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে এ বিষয়ে তাদের মতামত জানাবেন।

ইউজিসির চাওয়া, ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ মত জানাতে হবে। এর মধ্যেই বুয়েটের শিক্ষা পরিষদ আগের মতোই ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্ত ইউজিসির সভায় জানানো হবে।

আবার বিষয়টি নিয়ে বুয়েট শিক্ষকদের মধ্যেও মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, গুচ্ছভিত্তিক পরীক্ষার উদ্যোগই ভালো ছিল।

আবার কেউ কেউ বলছেন কেন্দ্রীয় পরীক্ষাই ভালো হবে। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, নতুন এই পদ্ধতিতে কেউ আপত্তি করছে না।

অনেকেই এখন ইতিবাচক। তাদের বক্তব্য হলো তাদের কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয় আছে। তবে যে কয়টা বিশ্ববিদ্যালয় রাজি হবে, তাদের নিয়েই এগোবেন।

বর্তমানে দেশে ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। তবে ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

এগুলোতে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে প্রায় ৬০ হাজার আসন রয়েছে। পরীক্ষা দেয় কয়েক লাখ শিক্ষার্থী।