অবশেষে টাকা দিতে রাজি গ্রামীণফোন

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নিরীক্ষা দাবির পাওনার অংশ হিসেবে এক হাজার কোটি টাকা দিতে রাজি হয়েছে গ্রামীণফোন।

হাইকোর্টের আদেশ মেনে রোববারের মধ্যে এ টাকা জমা দেবে দেশের বৃহৎ মোবাইল অপারেটর কোম্পানিটি।

গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন অফিসার মো. হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার নিরীক্ষা দাবির পাওনা এক হাজার কোটি টাকা সোমবারের মধ্যে দিতে গ্রামীণফোনকে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সোমবারের মধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনেকে (বিটিআরসি) পাওনা বাবদ এক হাজার কোটি টাকা দিতে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

আদালতের এই নির্দেশ না মানলে গ্রামীণফোনে সরকার প্রশাসক বসাবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

মন্ত্রী বলেন, প্রশাসক নিয়োগের সব প্রস্তুতি আমাদের আছে। যিনি গ্রামীণফোনের প্রশাসক হবেন তিনি হবেন ওই প্রতিষ্ঠানের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) পদমর্যাদার।

আমরা এমন একজনকে নিয়োগ করব যিনি গ্রামীণফোনকে কব্জায় আনতে পারেন।

মোস্তাফা জব্বার আপিল বিভাগের এই রায়ের পর বলেন, গ্রামীণফোনকে বাংলাদেশে ব্যবসা করতে হলে এই দেশের আইন মেনে করতে হবে।

তারা এই দেশে ব্যবসা করে, কিন্তু এই দেশের আইন-আদালতের প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধা নেই। তারা এর আগে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধেও উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে।

তাদের এই ধরনের ঔদ্ধত্বপূর্ণ মানসিকতা এই দেশে ব্যবসা করার জন্য ক্ষতিকর।

এ দেশে ব্যবসা করার মানসিকতা তাদের আছে বলে মনে হয় না। তিনি বলেন, গ্রামীণফোনে প্রশাসক নিয়োগের অনুমোদন আমরা আগেই নিয়ে রেখেছি।

এখন নিয়োগ করলে বোঝা যাবে পরিচালনায় কোনো সমস্যা হয় কি না। সমস্যা হলে সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এম আমীন উদ্দিন জানান, আমাদের মূল আইনি লড়াই শেষ হয়নি।

কারণ, বিটিআরসির দাবি তো অনেক টাকা। আপিল বিভাগ যে দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিলেন তার এক হাজার কোটি টাকা এখন সোমবারের মধ্যে দিতে হবে।

আমি আমার মক্কেল গ্রামীণফোনকে আদালতের এই চূড়ান্ত আদেশ জানিয়ে দিয়েছি।

এখন তারা কী করবেন সেটা তাদের বিষয়। এই পরিস্থিতিতে গ্রামীণফোনের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।

এর আগে আপিল বিভাগের এই রায়ের আগে গ্রামীণফোন দুই হাজার কোটি টাকার বিপরীতে বিটিআরসিকে মাত্র ১০০ কোটি টাকা দিতে চেয়েছিল।

বিটিআরসি তা প্রত্যাখ্যান করে। সন্ধ্যায় গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়, আপিলেট ডিভিশনের আদেশের বিষয়ে আমরা অবগত।

রিভিউ পিটিশনের মাধ্যমে আমরা প্রত্যাশিত ফলাফল পাইনি। এই মুহূর্তে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।

এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেছেন, আদালতের রায়ের পর এখন টাকা না দিয়ে গ্রামীণফোনের যাওয়ার আর জায়গা নেই।

তিনি আশা করছেন, অপারেটরটি এবার টাকা দিয়ে দেবে।