ঝুঁকিতে পুরান ঢাকা, এখনো আঁতকে ওঠেন চুড়িহাট্টাবাসী

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। আর ঢাকার রাজধানী হিসেবে খ্যাত পুরান ঢাকার চকবাজার। সেই চকবাজারের চুড়িহাট্টা এলাকায় গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জনের মৃত্যু হয়।

এরপর অনেক ঘাটের জল অনেক ঘাটে গড়িয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি দাবি এলাকাবাসীর।চুরিহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এক বছর পরেও সেখানে আতঙ্ক কাটেনি।

সেই ভয়াবহতা এখনো আঁতকে ওঠেন চুরিহাট্টা মসজিদের পাশে আজগর লেন, নবকুমার দত্ত রোড এবং হায়দার বক্স লেনের বাসিন্দারা।

এই তিনটি সরু রাস্তার মাঝখানে পুড়ে কালো হয়ে থাকা মুখোমুখি দুটো চারতলা ভবন দেখলেই বোঝা যায় কতটা ভয়াবহ ছিল সেই দুর্ঘটনা।

এ দুর্ঘটনার উৎস ছিল কেমিক্যাল গোডাউন। এই ভয়াবহতার সাক্ষ্য বয়ে বেড়াচ্ছে ওয়াহেদ ম্যানশনের প্রতিটি দেয়াল।

এর আগে ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতেও একই ধরনের দুর্ঘটনায় ১২৪ জন প্রাণ হারান।

সেখানেও ঘাতক সেই কেমিক্যাল। এত প্রাণহানির পর অনেক কথা উঠলেও আসলে কাজের কাজ কিছুই হয়নি দাবি এলাকাবাসীর।

আশ্বাসের বেড়াজালে বন্দি থেকেছে রাসায়নিক বা কেমিক্যালের গুদাম ও কারখানা স্থানান্তর।

সরকারের গত বছরের হিসাব অনুযায়ী, পুরান ঢাকায় প্রায় ২৫ হাজার রাসায়নিক এবং প্লাস্টিকের কারখানা ও গুদাম আছে।

এগুলো সরাতে আরও ৪ থেকে ১০ মাসের মতো সময় লাগবে বলে জানান শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুল হালিম।

স্থানীয় এলাকাবাসী দৃশ্যত কোনো পরিবর্তন হয়নি দাবি করলেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

আবদুল হালিম বলেন, একটা উন্নয়ন প্রকল্প শুধু পাস হলেই হয় না। এখানে সরকারকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিত হয়ে আইনানুযায়ী অনেক ধাপে কাজ করতে হয়।

এগুলো তো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। কমন মানুষের মনে হতে পারে কিছুই হচ্ছে না। আসলে কাজ চলছে ঠিকই।

চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির পর পুরান ঢাকা থেকে শুরু করে সব ধরনের আবাসিক ভবন থেকে রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরিয়ে নিতে তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়ার কথা জানায় শিল্প মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে দুটি দ্রুতগতির প্রকল্প এবং তৃতীয়টি দীর্ঘমেয়াদি। দ্রুততম প্রকল্পটির দুটির মধ্যে একটি নির্মাণ করা হচ্ছে ঢাকার শ্যামপুরে।

সেখানে রাসায়নিক গুদামজাত করার জন্য ৫৪টি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় প্রকল্পটি হচ্ছে ঢাকার টঙ্গিতে।

সেখানে মূলত অ্যাসিডের মতো রাসায়নিকের কারখানা ও গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। এর কাজ শেষ হতে এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এ ছাড়া অন্যান্য রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরিয়ে নিতে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ৩১০ একর জায়গাজুড়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়ার কথা জানান আবদুল হালিম।