সাইয়্যিদ মুজাদ্দিদের তিন কবিতা

একদিন রোদ হচ্ছে
একদিন রোদ হচ্ছে
একদিন হচ্ছে না
আমরা আমাদের পথে পথে হাঁটছি শারমিন
একবার বলছি, চলো বাতিঘরে যাই
আবার যাচ্ছি না
তোমাকে তালিম দিচ্ছি প্রেম আর উপেক্ষার মন্ত্র
স্থির দাঁড়ায়া আছি তবু সবাহি মক্তবের কোণে
একদম নড়ছি না

নির্দিষ্ট সময়, কেউ টের পেয়ে যেতে পারে
ভয়ে, আমরা আমাদেরকে ছুঁইতে পারছি না
এমন করে কি বৃষ্টি হতে পারে শারমিন
কেউ ত দেখি না কাউরে কোনোদিন
একদিন বৃষ্টি হচ্ছে
একদিন হচ্ছে না
আমার এলাকা ছাড়া হয় না, কাদা মাটি লেগে থাকে
ঘরে ঢুকতে দিবে না জানি
তবু মুগ্ধতা নিয়ে তোমাকে শুনতে চাচ্ছি শারমিন
তুমি বুঝতে পারছো?

চলে যাচ্ছো আরফাহ
চলে যাচ্ছো আরফাহ
পৃথিবীর দুই দিকে নিশ্চিন্ত দাঁড়ায়া থাকা দ্বীপ
সূর্যের ছায়া কেবল পড়েছে মাত্র
আমরা আটকে আছি শহরের যানজটে-
মানুষের দিকে দৌড়ে গিয়ে মনে পড়লো
ভোরের ফ্লাইটে ওসমানি বিমানবন্দর ছেড়ে যাবে একটি বিমান।

এখন সন্ধ্যা সাতটা, ট্রাফিক জ্যামের কবলে বাড়িঘর
তোমার দিকে তাড়ায়া নিয়া আসছি যেন সুবিশাল জাহাজ
চান্নিঘাটের বন্দর ছেড়ে দিয়ে দাঁড়াবো সুরমার মাঝামাঝি
গোসল শেষে বাড়ি ফিরতে সঙ্গে কাউরে দরকার-

তুমি চলে যাচ্ছো আরফাহ
ভোরের ফ্লাইটে ওসমানি বিমানবন্দর ছেড়ে গেলো একটি বিমান।

তুমি কে হে?
তুমি কে হে? বিষণ্ন, দাঁড়িয়ে থাকা উন্দালে
উনুনে আগুন জ্বলে
দূরের মানুষের মনে জাগে বিরহ-
পরকীয়া না করা নারী
সতীত্বের দায় এনে
অস্বীকার করে চলেছো, তবু কোলাহলে
অনেকেই হারিয়েছে, নক্ষত্রের মতো-
একটি দুটি করে অনায়াসে সবকটি দৃষ্টিপ্রদীপ চোখ।