পুষ্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের দুটি কবিতা

আসবে কবে তুমি
আমার আছে মেঘের মত চুল
আমার আছে বিষাদ পানা মন
আমার আছে জীবন ভরা ভুল
তোমার কাছে সবটা সমর্পণ।

আমার আছে দীঘির মত হাসি
আমার আছে অভিমানের রোগ
আমার আছে স্বপ্ন রাশি রাশি
তোমার কাছে বিপুল অভিযোগ।

আমার আছে কান্না ভরা চোখ
আমার আছে তৃষ্ণা জাগা রাত
আমার আছে হারিয়ে যাওয়ার ঝোঁক
তোমার কাছে তাইতো বাড়াই হাত।

আমার আছে শব্দ কলম কালি
আমার আছে পাখির নরম বুক
চাই নি তোমায় লাগিয়ে জোড়াতালি
তোমার কাছে একপৃথিবীর সুখ।

যেদিন তুমি আসবে আমার দেশে
ভাসিয়ে দেব এ বুক মরুভূমি
দুঃখ যত উড়িয়ে দেব হেসে
আমার হয়ে আসবে কবে তুমি?

একুশে ফেব্রুয়ারি
বিপ্লবের মরশুমে জ্বলে ওঠা
অরণ্যে বাদাড়ে ওরা ফিরে ফিরে আসে
মৃত শহীদের রক্তে ভেসে যায় সংগ্রামী কৃষ্ণচূড়া
মায়ের কান্নার মতো ভিজে ভিজে স্বরবর্ণের প্রতিটি অক্ষর
মা বসে মাটির দাওয়ায়
দখিন হাওয়ায় ঝিরঝিরে উনুনে সুখ রাঁধতে রাঁধতে
মা চেনায় হাতেখড়ির মানে
অ এ অনুমতি…..যা নারীর শৃঙ্খল
আ এ আদেশ…..পুরুষের পোষাকী রূপ
ই তে ইচ্ছা…..নারীকে তা বিসর্জন দিতে হয় রাতের আদিমতায়
ঈ তে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান….
যার পুরুষ পুরুষ কামুক গন্ধটা মিশে যায়
ঘুঁটে আর কাঠকয়লার ধোঁয়ায়
পাঁচমিশালি গন্ধে চিনচিনে ঘুম জাগে পেটের গভীরে
বিমর্ষ অন্ধকারে মায়ের অপরূপা রূপ ফুটে ওঠে চিকচিক
টগবগে ভাতের ঘ্রাণ স্ফূলিঙ্গের মত
মাতৃভাষার মত সহজ- সুস্বাদু !

মেঝের বিছানায় মা শেখাচ্ছিল
কৃষ্ণচূড়া শুধু ফাগুন আনে না
কৃষ্ণচূড়া বাংলার বিপ্লবও আনে
কৃতজ্ঞতার স্মৃতিসৌধ্যের মত সারি সারি অরণ্যে
ফুটে ওঠা কৃষ্ণচূড়া কোন ফুল নয়
পথের দুধার জুড়ে শত শহীদের রক্ত
বাংলার জন্য,মাতৃভাষার জন্য, বাংলাদেশের জয়সঙ্গীত
কোকিলের গানের মত অহঙ্কারী
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি।