কলকাতায় ব্যতিক্রমী আলোচনাচক্র

ফারুক আহমেদ
কলকাতার সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল মিশন কলেজ ও অসমের স্বায়ত্বশাসিত নর্থ লখিমপুর কলেজের যৌথ উদ্যোগে ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারি সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল মিশন কলেজে অনুষ্ঠিত হল একটি রাষ্ট্রীয় আলোচনাচক্র।

এর মূল বিষয় ছিল “বিষ্ণুপ্রসাদ রাভা ও ভারতীয় সংস্কৃতি (বাংলা-অসম সম্পর্কের নিরিখে)”। এর যুগ্ম-সঞ্চালক ছিলেন ড. শেখ মকবুল ইসলাম ও ড. অরবিন্দ রাজখোয়া।

বিষ্ণুপ্রসাদ রাভা (১৯০৯-১৯৬৯) সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল মিশন কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে আইএসসি স্তরে পঠন-পাঠন করেছিলেন ১৯২৭-১৯২৮ সালে।

বিষ্ণুপ্রসাদ রাভা ভারতের এক অনন্যসাধারণ প্রতিভা। একাধারে চিন্তাবিদ, দার্শনিক, গীতিকার, সুরকার, অভিনেতা, নৃত্যশিল্পী, চিত্রশিল্পী ও সমন্বয়ী ব্যক্তিত্ব।

এই আলোচনা চক্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন ড. শেখ মকবুল ইসলাম।

উদ্বোধনী ভাষণ দিলেন অধ্যাপক শুভেন্দু কাঞ্জীলাল। বীজ বক্তব্য প্রদান করেন অসমের ড. অনিল শইকিয়া।

এছাড়া বক্তব্য প্রদান করেন ড. উমেশ চন্দ্র ডেকা, ড. বিশ্ব হাজরিকা, ড. অরবিন্দ রাজখোয়া, অধ্যাপক বিনায়ক ভট্টাচার্য, অধ্যাপক গৌতম ব্যানার্জি ও অধ্যাপক দেবাশিস মন্ডল।

এই অনুষ্ঠানে দুটি গ্রন্থের উদ্বোধন হয়। বাসুদেব দাস রচিত “আমাদের বিষ্ণুপ্রসাদ রাভা” গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন রামকুমার মুখোপাধ্যায়।

ড. শেখ মকবুল ইসলাম রচিত “মান্যগোষ্ঠীর লোকসংস্কৃতি: বাংলাদেশের পাংখুয়া” গ্রন্থটি উন্মোচন করেন ড. মহেশ ডেকা।

আলোচনা চক্রের ভিতর দিয়ে উঠে এলো বিষ্ণুপ্রসাদ রাভার জাতীয়তাবাদী ভাবনা, শ্রেণী চেতনা ও সাম্যবাদী ভাবনার নানা দিক।

অসম-বাংলা সম্পর্কের ঐতিহাসিক অজানা অধ্যায় উঠে এলো। খুলে গেল অনেক নতুন দিগন্ত।

রবীন্দ্র সঙ্গীত ও রাভা সংগীতের তুলনামূলক আলোচনা, কাজী নজরুল ইসলাম ও বিষ্ণুপ্রসাদ রাভার কাব্যভাবনা, নজরুল ইসলাম ও

বিষ্ণু রাভার সমাজ ভাবনার নানা দিক, ভূপেন হাজরিকা ও অসম-বাংলা সম্পর্কের প্রসঙ্গ- ইত্যাদি বিষয় উঠে এলো। এরই সঙ্গে ছিল সংস্কৃতি বিনিময় অনুষ্ঠান।

বাংলা ভাষায় অনূদিত বিষ্ণুপ্রসাদ রাভার গান ও নর্থ লখিমপুর কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা পরিবেশিত সত্রীয় নৃত্য, বিহু নৃত্য সকলের মন জয় করে নেয়।

ড. শেখ মকবুল ইসলাম জানান, ভাষা-সংস্কৃতির দিক থেকে অসম ও ওড়িশা বাংলার সব থেকে নিকট আত্মীয়।

সব বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে এই আত্মীয়তা রক্ষা করা আজকের বিদ্যায়তনিক দায়বদ্ধতা। বিষ্ণুপ্রসাদ রাভা আমাদের কলেজের প্রাক্তনী।

তার জন্মের ১১০ তম বর্ষে, আমাদের কলেজ ও নর্থ লখিমপুর কলেজের উদ্যোগে বাংল -অসমের বন্ধুত্বপূর্ণ এই অনুষ্ঠান অবশ্যই এক স্বতন্ত্র সত্য তুলে ধরবে।

চারিদিকে বিভাজনের আবর্তে যখন এক অনাকাঙ্খিত অস্থিরতা চলছে, তারই মাঝে অসম-বাংলার একতা ও বন্ধুত্বের উজ্জ্বল নজির সৃষ্টি করলো সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল মিশন কলেজ ও নর্থ লখিমপুর কলেজ।

সমগ্র অনুষ্ঠান ও এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চক্র ব্যতিক্রম প্রয়াস। আলোচনা চক্রে অংশ নিয়ে সকলে মুগ্ধ হলেন এবং তাদের উৎসাহে সেমিনার সার্থক রূপ পেল।