বিশ্বজুড়ে মহামারির আশঙ্কা

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: প্রাণঘাতী নতুন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখনই কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নেয়া গেলে

বিশ্বজুড়ে মহামারি সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস গেব্রিয়েসাস।

ভাইরাসটি ‘নির্ণায়ক বিন্দুতে’ পৌঁছেছে এবং এর ‘মহামারি হয়ে ওঠার সম্ভাবনা’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একের পর এক পদক্ষেপের মধ্যেই তেদ্রোস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারগুলোতে দ্রুত ও আরও জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রভাব এবার পড়েছে বিশ্ববাজারেও। ২০০৮ সালের বিশ্বমন্দার পর বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দেখা দিয়েছে এ সপ্তাহে।

নতুন এ পর্যায়ে ভাইরাসটি এখন চীনের বাইরের দেশগুলোতে হু হু করে ছড়িয়ে পড়ছে।

শুক্রবার তৃতীয় দিনের মতো চীনের চেয়ে দেশটির বাইরে বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

চীনের ভেতর ভাইরাসটিকে ‘বেঁধে রাখা’ সম্ভব না হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন চিকিৎসা উপকরণের মজুত বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বিশ্বজুড়ে নতুন অর্থনৈতিক মন্দারও আশঙ্কা করছেন। গত কয়েক দিন ধরে ইরান ও ইতালিতে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে।

নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ইরানের নারী ও পরিবারবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুমে এবতেকারও আছেন বলে দেশটির গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।

এদিকে চীন সফর করে যাওয়ার পর মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট খলতমা বাতুলগা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সগবাটার দামদিনকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে (ভাইরাস সংক্রমণরোধে আলাদাভাবে রাখা) পাঠানো হয়েছে।

তাদের সঙ্গে সফর করে আসা অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও একইভাবে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

তবে রাষ্ট্রীয় হাসপাতালে নাকি প্রেসিডেন্ট ভবনে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথমবারের মতো কোনো ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

ব্রিটিশ ওই নাগরিক জাপানে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা প্রমোদতরি ডায়মন্ড প্রিন্সেসের যাত্রী ছিলেন।

যেই প্রমোদতরিতে থাকা সাত শতাধিক যাত্রী এখন চীনের উহান থেকে ছড়ানো নতুন এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত।

আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়াসহ অন্তত নতুন ১০টি দেশে ভাইরাসে আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস বলেন, (চীন ছাড়া) বাকি পৃথিবীতে যা ঘটছে, তা নিয়েই এখন আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

আমরা এখন এমন এক সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছি যে, সংক্রমণ পরিস্থিতি যে কোনো দিকে যেতে পারে।

নির্ভর করছে কীভাবে তা আমরা মোকাবিলা করব। ভাইরাসটির মহামারি হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখন আতঙ্কিত হওয়ার সময় নয়। এখন সময় সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও জীবন বাঁচানোর।

ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে ৮৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া বিশ্বের বাকি সব মহাদেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চীনসহ প্রায় অর্ধশত দেশে আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে।

বিশ্বে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে দুই হাজার ৮৫৮ জনে।