অগ্নিঝুঁকিতে সব বহুতল, আসছে বিমার আওতায়

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: সারাদেশের অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি বড় ভবনেই অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এছাড়া বেশির ভাগ ভবন পুরনো হওয়ায় সেগুলোতে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সংযোজন করাও কঠিন।

একইসঙ্গে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলেও অগ্নি দুর্ঘটনা বাড়ছে। সম্প্রতি রাজধানীর দিলু রোডে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে গোটা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ২২ হাজার ২৮৩টি অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

ওসব ঘটনায় ২ হাজার ১৩৮ জন মারা যায়। দগ্ধ হয় ১৪ হাজার ৯৩২ জন। আর ওই বছর আগুনের ঘটনায় ২০৩ কোটি ৯২ লাখ ৭৪ হাজার ৩১৫ টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে।

২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে সারাদেশে দেড় লাখ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ওসব ঘটনায় এক হাজার ৪৯০ জনের মৃত্যু এবং ৬ হাজার ৯৪১ জন দগ্ধ হয়েছেন।

সে জন্য সম্পদ ও প্রাণহানি কমিয়ে আনতে সরকারি-বেসরকারি সব ভবনকে অগ্নিবিমার আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, রাজধানীতে এবং দেশের বিভিন্ন বড় শহরের ৯০ ভাগ বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।

ফলে যে কোনো ধরনের বড় অগ্নিকাণ্ডে ওসব ভবনে অনেক সময় জীবনহানির পাশাপাশি সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

গত কয়েক বছর দেশের বেশ কয়টি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ফলে ব্যাপক জানমালের ক্ষতি হয়েছে।

অদূর ভবিষ্যতে এমন ধরনের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি কমিয়ে আনার পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা যাতে সহজেই

ক্ষতিপূরণ পেতে পারে সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সম্প্রতি ওই বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে বিমার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, দেশের বহুতল ভবনগুলো অগ্নিবিমা পলিসির মধ্যে আনা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে পাইলটিং ব্যবস্থায় ভবনগুলো বিমার আওতায় আনা হলে ভালো হয়।

পাশাপাশি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যে আইনগুলো আছে, সেগুলো যাতে বাস্তবায়ন করা যায় সেদিকেও নজরদারি বাড়াতে হবে।

এলাকাভিত্তিক আলোচনা করে পাইলটিং কাজ শুরু করা যেতে পারে। বর্তমানে দেশজুড়ে সাধারণত ষষ্ঠ থেকে ১০ তলা পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক ভবন রয়েছে।

তবে ১৮ তলার ওপরে ভবন করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত ফি জমা দিতে হয়।

সুউচ্চ ওসব ভবন বিমার আওতায় আনতে রাজউক ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে যদি আইন করার প্রয়োজন হয় তাহলে তা করা হবে।

তাছাড়া রাস্তা প্রশস্ত না হওয়ায় অনেক সময় বহুতল ভবনের আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বেগ পেতে হয়।

ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে না। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। পরিস্থিতিতে সামাল দিতে কর্তৃপক্ষকে সেদিকেও নজর দিতে হবে।

সূত্র আরও জানায়, দেশের বহুতল ভবনগুলো বিমার আওতায় আনতে হলে আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে।

দেশে বর্তমানে প্রিমিয়ামের হার প্রতি বর্গফুট শূন্য দশমিক ৭৫ টাকা। কিন্তু দেশব্যাপী চালু করতে হলে প্রিমিয়াম রেট কমাতে হবে।

সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেনস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেনস ফোরাম মিলে বাস্তবায়নযোগ্য একটি প্রিমিয়াম হার নির্ধারণ করতে পারে।

তাছাড়াও সিটি করপোরেশনের বার্ষিক নিবন্ধন ফি নবায়নের সময় ভবনগুলোর বিমা আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে পারে।

পাশাপাশি বিদ্যমান আইনগুলো পর্যালোচনা করা উচিত।

সার্বিকভাবে বিবেচনা করে তা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। কারণ, সরকার চায় সরকারি-বেসরকারি সব ভবন বিমার আওতায় আনতে।

কীভাবে সেটি বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

ওই লক্ষ্যে চলতি মাসেই বাংলাদেশ বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডিআরএ) সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে একটি নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হবে।

আর প্রাথমিকভাবে সেটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করা যায় কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

এ প্রসঙ্গে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরিচালক কামরুল হক জানান, দেশে অনেক বহুতল ভবন রয়েছে, যেগুলো কখনো বিমার আওতায় আনা হয় না।

ট্যারিফ বেশি হওয়ায় মূলত অনেকে বিমা করেন না। নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নে আইনগতভাবে তাদের বাধ্য করতে হবে।