ওই নতুনের কেতন ওড়ে!

শওকত জামান
নতুনের কেতন উড়িয়ে উদ্যেমে এগিয়ে চলা তরুণ সাংবাদিক ভাইদের প্রতি রইলো শুভ কামনা। আপন মহিমায় সাংবাদিকতায় এগিয়ে যাও, বদলে দাও সমাজ। স্বপ্ন দেখাও পিছিয়ে পড়া মানুষদের।

আশাহত মানুষদের আশা জাগাও, দেখিয়ে দাও প্রগতির পথ। নীতি নৈতিকতা পেশাদারী দায়বদ্ধতায়

সংবাদ পরিবেশন করে অর্পিত দায়িত্ব কর্তব্যটুকু পালন করে যাও নির্লোভ সাহসিকতায়। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা হোক গণমানুষের আশ্রয়স্থল।

মিডিয়া বেড়েছে, বেড়েছে সাংবাদিকের সংখ্যা। আশার আলোয় নতুনের বিজয়ের স্বপ্ন দেখেছিলাম।

সংখ্যা বাড়লেও প্রশিক্ষিত সাংবাদিক বাড়েনি। প্রশিক্ষিত সাংবাদিক তৈরি যে সাপোর্ট সরকারি-বেসরকারিভাবে

জেলা উপজেলা পর্যায়ে তা যৎ সামান্য। যাও আছে সর্বত্র পৌঁছায় না, আবার দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষিত হওয়ার

ট্রেনিংসহ নানাবিধ সুযোগ কিভাবে নিতে হয় প্রক্রিয়া না জানা থাকাটাই সেই ছিটেফোঁটাও কপালে জুটছেনা বুদ্ধিবৃত্তিক এ পেশায় কর্মরতদের।

পেশাটাই চ্যালেঞ্জিং। চ্যালেঞ্জ না নিতে পারলে এ পেশায় আসা ঠিক নয়। নানা সংকটের মুখেও নিজের দক্ষতা বাড়ানোর প্রবল ইচ্ছা শক্তিতে বস্তুনিষ্ঠ সত্য প্রকাশের লড়াই করলে

দক্ষ সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। অনেকে বৈচিত্র্যময় রিপোর্টিং করে নিজেকে মেলে ধরেছেন।

প্রতিভাবান সাংবাদিক আছেন আমাদের জামালপুরেই। তবে সংখ্যায় কম, তাই হতাশ আমরা।

প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে কি পত্র-পত্রিকা, সরকারি বেসরকারি রেডিও টেলিভিশন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল

ও সর্বশেষ ওয়েব টিভিগুলোতে কর্মরত নতুনরা কি দায়িত্ব পালন করছেন না? তারা কি সংবাদ পরিবেশনে ব্যর্থ হচ্ছেন?

হ্যাঁ, মিডিয়া হাউজগুলোতে প্রতিনিধিত্ব করছেন। নতুনদের মধ্যে অনেকেই ভাল করছেন।

যারা পেশার প্রতি কমিটেড, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদসেবার অঙ্গীকার নিয়ে এ পেশায় এসেছেন তারাই ভাল করছেন।

সেইসব তরুণ তুর্কি সাংবাদিকদের প্রতি লাল সালাম।

এ পেশায় আসা নতুনদের মধ্যে আজকাল দেখা যায় অস্থিরতা। তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবের যুগে অস্থিরতা থাকাটাইতো স্বাভাবিক।

তবে সেই অস্থিরতা থাকতে হবে সময়ের সাথে যুদ্ধ করে দ্রুত গতিতে তাজা সংবাদ পাঠকের সামনে পরিবেশনে।

বিধি বাম, চোখে পড়ে উল্টো চিত্র। রিপোর্টিংয়ে অনাগ্রহ থেকে শটকার্ট পথে পেশায় নিজের উন্নতি, অর্থ, খ্যাতি যশ অর্জনে।

ভীত গড়ার দৃষ্টি এড়িয়ে রাতারাতি উপরের সিঁড়ি খোঁজাখুঁজিতে দৌঁড়ের উপর। ঠিক ফাউন্ডেশন বিহীন দালানের মতো।

সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হওয়া নতুনদের উদ্দেশে বলছি, সাংবাদিকতা করতে সবার আগে জানতে হবে,

সংবাদ কি, কিভাবে সংবাদ তৈরি করতে হয়, কোনটা সংবাদ কোনটা সংবাদ নয়, সংবাদে কি লেখা যাবে কি লেখা যাবে না।

এছাড়া সংবাদ সংক্রান্ত নানান টিপস। সংবাদপত্রের আইন সম্পর্কেও সম্যক ধারণা থাকতে হবে।

রিপোর্টিং করতে হলে শিখতে হবে। শেখার বিকল্প নেই। এসবের ধারে কাছেও যখন ছেলেপুলেদের দেখিনা।

তখন নতুনদের নিয়ে আগামীর স্বপ্ন দেখতে না পেয়ে মর্মাহত হই।

আজকাল, যারা সাংবাদিকতায় নতুন এসেছেন, কিছু সময় পারও করেছেন, তাদের মধ্যেও দেখি অস্থিরতা।

সাংবাদিকতায় রিপোর্টিং শেখায় খেয়ালেই নেই। পেশায় নেমেই কিভাবে, দক্ষতা ছাড়াই দ্রুত এগিয়ে যাওয়া যায় সেই চেষ্টায় বেহুশ তারা।

তাদের সম্বল বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির বদৌলতে কপি পেস্টতো রয়েছেই। অধিকাংশ সাংবাদিকই রিপোর্ট লিখতে জানেন না, আবার কয়েকজন রিপোর্ট লিখলেও।

কি পাঠালাম আর কি প্রকাশ হলো তা দেখারও সময় নেই। শেখার আগ্রহও নেই। কপি পেস্টের দিকেই যেন নজর তাদের।

নিজে লিখতে না পারলে কি হবে, যারা লেখে তাদের কাছে ঘুরঘুর করে রিপোর্ট নিয়ে ঠিকই অফিসে পাঠাতে পারঙ্গম তারা।

তবে অনেকেই মাঠ ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করছেন, নিউজ সংশ্লিষ্ট ছবিও তুলছেন। কিন্তু রিপোর্টিং না জানা থাকায় নিজের দেখা ঘটনা বা যেকোনো বিষয় তুলে ধরে পারছেন না।

যারা লিখতে জানেন তাদের লিখে দিতে তোষামোদ করছেন। যতক্ষণ তোষামোদিতে সময় ব্যয় হয় এইটুকু রির্পোটিং শেখায় খরচ করলে পরনির্ভর হয়ে থাকতে হতো না।

নিজের দেখা ঘটনা এমনকি সংগ্রহ করা তথ্যে নিজেই সংবাদ তৈরি করতে না পারা টা লজ্জার।

কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিকদেরও নিউজ লেখায় এমন অনাগ্রহ চোখে পড়ে। যা পেশার জন্যে ক্ষতিকর।অপরের ধার করা নিউজ নিজের নামে প্রকাশ হলে শান্তি নেই।

নিজের সৃষ্টি যখন প্রকাশ হয়ে পাঠকের চোখে জ্বল জ্বল করে ভাসবে, সে ঘটনার আনন্দই আলাদা। সেটা অন্যরকম ভাললাগার অনুভূতি।

তাই, আমাদের আগামীর স্বপ্নবাজ তরুণ সংবাদকর্মীদের বলছি, কাজে মনোযোগী হন। একান্তমনে সাংবাদিকতায় মগ্ন হন, নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখেন।

ভাল রিপোর্টার হয়ে কাজের গুণে সাংবাদিক সমাজসহ সকল মহলের আস্থা, ভালবাসা ও সাহসিকতার সাথে সাংবাদিকতা করুন।

আগামীর জয়গান গাইতে গণমানুষের প্রতিবাদী কণ্ঠ হয়ে উঠুন।

লক্ষ্য অটুট থাকলে সাংবাদিকতায় দক্ষতা বাড়িয়ে ধ্যানে জ্ঞানে সংবাদসেবায় নিয়োজিত থাকলে সাফল্য হাতের মুঠোয় আসবেই।

ভালো সাংবাদিক হয়ে দেশ ও মানুষের অধিকার আদায়ে তাদের না বলা কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরাই মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক এ পেশার দায়িত্ব ও কর্তব্য।

যদি, ভালবেসে এ পেশায় নিজেকে বিলিয়ে দেয়া যায়, তবে খ্যাতি ও সম্মান আপনা আপনি আসবে।

আজ যারা সাংবাদিকতা নিয়ে কথা বলছে, একদিন তারাই কাজের গুণে ভালবাসা-সমীহ করবে আপনাদের। আমি সেই স্বপ্ন দেখি।

নতুনদের ভুল ধরে কথা বলা নয়, আমাদের দায়িত্বও রয়েছে তাদের পথ দেখানোর।

নতুনের জয়গানের সুরে সুরে আওয়াজ তুলুন আমরাও পারি। আমরা পারবো আগামীর স্বপ্ন দেখাতে।

তারপরেও সংকট সংশয় বৈষম্যের দেয়াল ডিঙ্গিয়ে তৃণমূলের সাংবাদিকতা গণমাধ্যমে গৌরবময় ভূমিকায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের স্বাক্ষর রেখে চলছে।

চলবে আগামীর পথে। তখন আমরা গর্বভরে বলবো ওই নতুনের কেতন ওড়ে!

লেখক: সাংবাদিক