বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ নওগাঁর আমীন উদ্দীন

বাংলাবাজার পত্রিকা
বদলগাছী (নওগাঁ): নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সদর ইউনিয়নের তেজাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আমীন উদ্দীন বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষ।

তার পিতা মৃত রূপলাল মন্ডল, মাতা মৃত মনত বিবি। একসময় ছিলেন সুঠাম দেহের অধিকারী।

তিনি এখনও সবল, নিজে নিজেই সব কিছু করতে পারেন। স্বাভাবিকভাবে চোখেও দেখেন। কিন্তু বয়সের ভারে কাবু হওয়ায় লাঠিতে ভর করে খুব কষ্টে হাঁটতে হয়।

স্ত্রীকে হারিয়েছেন বহু বছর আগেই। স্ত্রীর কথা বলতেই মনের গহীণ থেকে দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে তার।

মো. আমীন উদ্দীন এর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, তার বয়স ১৩১ বছর। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ১২৪ বছর।

জাতীয় পরিচয়পত্রে তার জন্ম তারিখ দেয়া আছে ৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৬ সাল।

তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্ম তারিখ সঠিক নয়। নির্বাচনের সময় লোকজন এসে পরিচয়পত্র বানিয়েছে।

তার বয়স কত তা জিজ্ঞেস না করেই অনুমান করে একটা সাল বসিয়ে দেয়া হয়েছে।

তার বয়স জানতে চাইলে তিনি জানান, তার নিজের ধারণা তার জন্ম ১৮৮৯ সালে। বাংলা ১৩০৪ সালে তিনি বড় ভূমিকম্প দেখেছিলেন।

ওই সময় তার বয়স ৮ থেকে ৯ বছর হবে। সেই ভূমিকম্পের স্মৃতি আজও তার মনে আছে। তার হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে তার বয়স চলছে ১৩১ বছর।

জানা যায়, তিনি ৫ ছেলে ও ৩ মেয়ের জনক। বর্তমানে আমিন পরিবারে ছেলে-মেয়ে ও নাতি-পুতি মিলে সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬০ জন।

ছেলে-মেয়েরাও এখন বয়োজৈষ্ঠ হয়ে গেছেন।

তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার বন্ধু-বান্ধবের ছেলে ও নাতিরা এখনো আমাকে দেখে বলেন আপনি এখনও বেঁচে আছেন?

আমরা ভাবছি আপনি অনেক আগেই মারা গিয়েছেন। আমার খেলার সাথী, ব্যবসায়ের বন্ধু-বান্ধব বহু পূর্বেই মারা গিয়েছেন।

তিনি বুকভরা হাসি দিয়ে বলেন, আমি এখনো বেঁচে আছি। তিনি জানান, ব্রিটিশ যুদ্ধ, ভারত ভাগ, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন দেখেছি।

আর ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ মাত্র কয়েক বছর আগের ঘটনা। সব কিছু গড়গড় করে বলে দেন। দারুণ আত্মবিশ্বাসী মো. আমীন উদ্দীন বিভিন্ন ইতিহাসের সাক্ষী।

তার বড় দুই বোনও ছিলেন দীর্ঘজীবী মানুষ। বড় বোন ক্ষুদিমন বিবি ১১৩ বছর ও ছোট বোন ৯৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

তার পরিবারের লোকজন বলেন, তিনি নিজের চেষ্টায় তার সকল কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিভিন্ন সূত্র ও তথ্য মতে, বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তির তালিকায় থাকা জাপানের বর্তমানে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষের তালিকায় ছিলেন

প্রায় ১১৪ বছর বয়সী পোল্যান্ডের অধিবাসী ইসরায়েল ক্রিস্টাল। ১১ আগস্ট, ২০১৭ সালে ১১৩ বছর ৩৩০ দিন বয়সে মারা যান তিনি।

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি জাপানের নাবি তাজিমা ২০১৮ সালে ১১৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তির তালিকায় ছিলেন জাপানের চিতেসতু ওয়াতানাবের।

১৯০৭ সালের ৫ মার্চ জন্ম গ্রহণ করা চিতেসতু ওয়াতানাবের ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে তিনি ১১২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

ফ্রান্স ভিত্তিক বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয় মৃত্যুর দুই সপ্তাহ আগে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

স্বীকৃতি পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি মৃত্যুবরণ বরণ করেন। এছাড়াও বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক নারীর তালিকায় রয়েছেন জাপানের কানে তানাকা।

তার বর্তমান বয়স ১১৭ বছর।

এর আগে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের চিনাশুখানিয়া গ্রামের ১২৮ বছর বয়সী নাজিম উদ্দিনের নাম গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠানোর দাবি উঠেছিল।

কিন্তু তার দালিলিক প্রমাণ না থাকায় তা আর হয়ে উঠেনি। এলাকার অনেকেই বলেন, জন্মের পর থেকেই উনাকে (মো. আমীন উদ্দীনকে) বৃদ্ধ অবস্থায় দেখছি।

উনি অনেক বয়স্ক মানুষ। উনার বয়সী কোনো লোক আমাদের এলাকায় বেঁচে নেই। উনার যে বয়স গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নামটি অন্তর্ভূক্ত হওয়া উচিত।

কারণ তার চেয়ে বয়স্ক মানুষ মনে হয় পৃথিবীতে আর দ্বিতীয় কেউ নেই। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি তিনিই হবেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক লোক।

তাই “গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে তার নাম লিখাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি।