দেশীয় শিল্পের বিকাশে ছাড় ও অব্যাহতির প্রস্তাব

দেশীয় শিল্প

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: দেশীয় শিল্পের বিকাশে ও জনস্বার্থে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি যেমন মূসক ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন, তেমনি কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার মূসক অব্যাহতি দেয়ারও প্রস্তাব দিয়েছেন। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি বিদ্যমান সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।

কৃষি খাতের বিকাশে সরকার বেশ কিছু ছাড় দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত সরিষার তেলে মূসক অব্যাহতির প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। কৃষি খাতে প্রণোদনা দিতে অর্থমন্ত্রী পাওয়ার রিপার,

পাওয়ার টিলার অপারেটেড সিডার, কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার, রোটারি টিলারে ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসক অব্যাহতির প্রস্তাব দিয়েছেন। মৎস্য, পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের টেকসই উন্নয়নে ইতিমধ্যে যেসব রেয়াতি সুবিধা আছে,

সেগুলো অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুটি নতুন উপকরণে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সেগুলো হলো, সয়াবিন অয়েল কেক ও সয়া প্রোটিন কনসেনট্রেট।

এতে পোল্ট্রি খাদ্যসামগ্রীর আমদানি ব্যয় কমবে। এ ছাড়া পোলট্রি খাতের সুরক্ষায় প্রক্রিয়াজাত মুরগির অংশ বিশেষ আমদানিতে শুল্কহার বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

দেশে উৎপাদিত আলু দিয়ে পটেটো ফ্লেক্স তৈরির ওপর মূসক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার পাশাপাশি ভুট্টা দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মেইজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে মূসক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, পেঁয়াজচাষিদের সুরক্ষা দিতে এবং আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করতে পেঁয়াজ আমদানিতে কিছুটা শুল্ক আরোপ এবং দেশে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে শিল্প লবণ আমদানিতে শুল্ক হার বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য এই খাতের উৎপাদিত পণ্য যেমন, পেরেক, স্ক্রু, ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ককর বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

দেশি মধুচাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণে মধু আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কহার খানিকটা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণে পাদুকা শিল্পের প্রসার করা দরকার বলে মনে করছে সরকার। এ লক্ষ্যে এই শিল্পের তিনটি কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনারের কম্প্রেসার উৎপাদনকারী দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

তবে দেশীয় জাহাজ শিল্পের বিকাশে ড্রেজার আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

ডিটারজেন্ট শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল লিনিয়ার অ্যালকাইল বেনজিন সালফোনিক অ্যাসিডের শুল্কহার কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

স্যানিটারি ন্যাপকিন ও ডায়াপার শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

ইস্পাত শিল্পের বিকাশে কাঁচামাল রিফ্র্যাকটরি সিমেন্ট আমদানিতে শুল্কহার কমানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া এই শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনকারী শিল্পের সুরক্ষায় ফেরো ম্যাঙ্গানিজ, ফেরো সিলিকন ও ফেরো সিলিকা-ম্যাঙ্গানিজের আমদানি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে রেগুলেটরি ডিউটি বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় ফটোগ্রাফিক প্লেটস অব প্লাস্টিক আমদানিতে শুল্কহার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

এ ছাড়া কাগজ উৎপাদন শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ওয়াশিং অ্যান্ড ক্লিনিং এজেন্ট আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক হার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার উৎসাহিত করতে ইডকলের অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর ৬০ এএমপি পর্যন্ত সোলার ব্যাটারি কেনার ক্ষেত্রে উৎপাদন পর্যায়ে মূসক অব্যাহতির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল ফোন সেট উৎপাদনে মূসক অব্যাহতি এবং সংযোজন খাতে ৫ শতাংশ হারে মূসক বিদ্যমান আছে। মূসক অব্যাহতির মেয়াদ এ বছরের ৩০ জুন শেষ হবে।

এই খাতটিকে দ্রুত বর্ধনশীল আখ্যা দিয়ে অর্থমন্ত্রী মূসক অব্যাহতি আরও এক বছর অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাত বিকাশের লক্ষ্যে দেশে উৎপাদিত লোডেড পিসিবি,

আনলোডেড পিসিবি ও রাউটারে ৫ শতাংশ মূসক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পের বিকাশেও বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। পলিস্টার, রেয়ন ও অন্যান্য সব কৃত্রিম সুতার ওপর মূসক মূল্যভিত্তিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে,

যার পরিমাণ কেজিপ্রতি ৬ টাকা। অন্যদিকে সব ধরনের কটন সুতার ওপর সুনির্দিষ্ট কর কেজি প্রতি ৪ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।