কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে কমেছে খেলাপি ঋণ

Bangladesh-Bank

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: সারা বিশ্বে এখন অস্থিরতা। করোনা ভাইরাস এর মহামারিতে বিপর্যস্ত দেশের অর্থনীতি। এরফলে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় অনেক কমে গেছে।

এ অবস্থায় খেলাপি ঋণ বাড়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ উদ্যোগে খেলাপি ঋণ কমে গেছে।

সর্বশেষ মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা কমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর আয় কমে যাওয়ার মধ্যেই অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ঋণগ্রহীতাদের নানা রকম ছাড় দেয়ার নির্দেশনা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে গ্রাহকের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে ঋণের টাকা ফেরত না দিলেও তাকে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত না করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মূলত এই ছাড়েই কমে গেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। যদিও ব্যাংকগুলো বলছে, এটি খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র নয়।

কারণ, এখন কাউকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২৪ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।

এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৯২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

গত বছরের ডিসেম্বরে ১০ লাখ ১১ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ বা মোট ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা।

সেই হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমেছে ১ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। যদিও গত বছরের মার্চে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা।

ওই সময়ে বিতরণ করা ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ কমেছে ১৮ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা।

এদিকে ব্যাংকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ হওয়ার পর থেকেই ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় অনেক কমে গেছে।

এই সময়ে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উৎপাদনমুখী তাদের পণ্য বিক্রি করতে না পারায় আয় কমে যায়। ফলে তারা ঋণের টাকা ফেরত দিতে পারেনি।

ফলে স্বাভাবিকভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ার কথা।

এপ্রিলে প্রজ্ঞাপন দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ঋণের টাকা ফেরত না দিলেও জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গ্রাহককে নতুন করে খেলাপি হিসেবে দেখানো যাবে না।

তাদের ঋণের মান ডিসেম্বরে যা ছিল তাই দেখাতে হবে। এই ছাড়ের সময়কাল আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

অর্থাৎ আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাহক কোনো অর্থ না দিলেও ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বাড়বে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থনীতির অধিকাংশ খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় অনেক শিল্প, সেবা ও ব্যবসা খাত তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না।

তাই ঋণ-বিনিয়োগগ্রহীতার ব্যবসায়ের ওপর কভিড ১৯-এর নেতিবাচক প্রভাব সহনীয় মাত্রায় রাখার লক্ষ্যে ঋণ পরিশোধ ও শ্রেণিকরণের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋণগ্রহীতারা ঋণের টাকা ফেরত দিতে পারছেন না। ফলে ব্যাংকের আয় কমে গেছে।

এ অবস্থায় দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে যেন বাড়তি খেলাপি ঋণের বোঝা না বাড়ে সে জন্যই ঋণগ্রহীতাদের ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবসা সচল রাখার জন্য নতুন ঋণগ্রহণে বাধা সৃষ্টি হবে না। আবার মন্দার কারণে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ বেড়ে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ বাড়বে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ঋণ খেলাপি হয়ে গেলে সেই ঋণের বিপরীতে সুদ আয় দেখানো যায় না, উল্টো প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়।

এতে ব্যাংকগুলোর আয় কমে মুনাফা কমে যায়।

এর ফলে শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত ব্যাংকগুলোর দেশের বাজারে যেমন ঝুঁকিতে পড়ে তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারের লেনদেনের ক্ষেত্রেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।