এস এম গোলাপের পাওয়া না পাওয়ার হিসেব

Poetry

পাওয়া না পাওয়ার হিসেব
-এস এম গোলাপ

মাইলফলক ছুঁয়ে যাওয়া দূরত্ব পেরিয়েও
বদনামের মেহফিল জুড়ে থাকে বেহিসেবি বর্তমান।
আমার আগামীকাল বলতে কিছুই নেই;
দিগন্ত রেখেছি বুকের বাঁ পাশে।

রোজকার যাপিত দিনের যন্ত্রনা, সার্টিফিকেট সর্বস্ব সাইনবোর্ডের আড়ালে ফুপিঁয়ে কাঁদে।
চশমার কাঁচ ভিজে।বয়স বাড়ে।বেড়ে যায় মুখের রেখার জ্যামিতিক বিন্যাস।
সেপ্টেম্বরের এসব রাতে আমার ঘুম আসেনা।
পাশ বালিশের বিছানা হয়ে উঠে প্রয়াত পিতামহের সাদা ধবধবে কাফনের কান্না।

আজন্মের ঈশ্বর অবিশ্বাসী আমি;
লোবানের গন্ধে মৃত্যুবিলাসে ম্রিয়মান হয়ে যাই।
বিষাদসিন্ধু পাঠরত বৃদ্ধের শীর্ণদেহের আড়াল থেকে শুনি,
আততায়ীর তরবারির কোপে রক্তাক্ত বুকের মাতাম।

যীশুর মতো ক্রুশবিদ্ধ গণতন্ত্রের বুক চিরে বেরিয়ে আসা আর্তনাদ!
বিক্ষোভ।মিছিলে মিছিলে বিদগ্ধ দিন।বিচ্ছেদ।ব্যর্থতা।সীমাবদ্ধতা।
নামক সেফটিপিন জুড়ানো এসব শব্দের অভিমানে না ঘুমানোর এমন রাতে আমি ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদের সাথে হেঁটে যাই দূর বহুদূরে।
আমার গায়ে নেশার গন্ধ।ভীষণ জ্বরে পুড়ে গেছে আমার প্রথম প্রেমের পদ্য লেখার খাতা।

সিলভিয়া প্লাথের প্যাথেটিক রোদ্দুরে ক্যকটাসের সালেকসংশ্লেষণে কখনও ক্লোরোফিল খুঁজে পাইনি!
অথচ আমি চিরকাল জেনেছি “ক্লোরোফিল ও এক ধরনের ভালোবাসা”!
আঙ্গুল গুনেগুনে পাওয়া না-পাওয়ার হিসেব আমার ঠিকঠাক মেলেনি কখনোই
অনুরাগের আয়োজনে হারিয়ে গেছে আমার গোপন অভিমান,
অভিমানের পিছনে দাড়িয়ে ছিল হলুদ খামের চিঠি।

হয়তো যা চাইনি তা পেয়েছি অনায়াসেই,যা চেয়েছি তা হাতের নাগাল ফসকে গেছে!
পাওয়া না-পাওয়ার হিসেব মেলাতে মেলাতে
ঝুপ করে নেমে আসে কৃষ্ণপক্ষের অন্ধকারের অভিশাপ!