এবার মার্কিন নির্বাচনেও কারচুপির আশঙ্কা

USA Election
Presidential Election 2020 in United States. Vote day

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সংঘাত সহিংসতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে নেয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ফল বিপক্ষে গেলে মেনে না নেয়ার হুঁশিয়ারির পর ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা, এর বিরুদ্ধে পাল্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইনবিদরা। ভয়ে দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন বিভিন্ন রাজ্যের স্থানীয়রা।

যদিও নির্বাচনের ভোট শেষে বুথফেরত জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। ভোটে কারচুপি হলে বা ফল আশানুরূপ না হলে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে উভয়পক্ষ।

এদিকে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটগ্রহণ চলছিল। তবে দু-একটি কেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডিক্সভিলে নচ গ্রামের ভোটাররা মঙ্গলবার স্থানীয় সময় প্রথম প্রহরে ভোট প্রদান করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে ভোটগুলো গণনা করা হয়েছে।

এই গ্রামের ৫টি ভোটের সব পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন। সেখানে একটি ভোটও পাননি ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অন্যদিকে মিসফিল্ড নামের একটি এলাকায় একটি কেন্দ্রে একইভাবে ২১টি ভোট পড়ে। এ কেন্দ্রে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ১৬ ভোট এবং বাইডেন পেয়েছেন ৫ ভোট।

তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল জানতে ৭-১০ দিন সময় লাগতে পারে। যদিও ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে বিজয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন উভয়ের শিবির থেকেই কারচুপির আশঙ্কা করা হয়েছে।

২০১৭ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কার হার ০.০০০০৪ থেকে ০.০০০৯ শতাংশ।

বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য মতে, এবার দেশটিতে পূর্ববর্তী যে কোনো নির্বাচনের তুলনায় ডাকযোগে বেশি ভোট পড়েছে। ডাকযোগে আসা এসব ভোট গণনার ক্ষেত্রেই কারচুপি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৬ সালের তুলনায় এবার দ্বিগুণ পোস্টাল ভোট অর্থাৎ ডাকযোগে আসা ভোট জমা পড়েছে।

কারচুপির আশঙ্কার পাশাপাশি পোস্টাল ভোটের কারণে এবারের নির্বাচনে ফল ঘোষণার সময়ের ব্যবধানও বেশি হতে পারে। এর ফলে শেষ মুহূর্তে আসা কয়েকটি কেন্দ্রের ফল পুরো ফলাফলকেই ঘুরিয়ে দিতে পারে।

পাশাপাশি একেক রাজ্যে ডাকযোগে আসা ভোট গ্রহণ এবং ভোট গণনার নিয়ম একেক রকম হওয়ার কারণেও নির্বাচনের ফল নিয়ে বেশ বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে গণমাধ্যমগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

জর্জিয়া এবং কিছু রাজ্যে কেবল ৩ নভেম্বর পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আসা পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে।

আবার ওহাইও’র মতো কিছু রাজ্যে ৩ নভেম্বরের পরে আসা ভোটও গণনার জন্য গ্রহণযোগ্য হবে যদি খামের ওপরে কমপক্ষে ৩ নভেম্বরের পোস্টাল সিল থাকে।

এর ফলে কিছু কিছু রাজ্যের সম্পূর্ণ ফলাফল পেতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

এদিকে পোস্টাল ভোট এবং সরাসরি দেয়া ভোটের গণনার ক্রম নিয়েও ভিন্ন ভিন্ন আইন আছে দেশটির রাজ্যগুলোতে।

যেসব রাজ্যে পোস্টাল ভোটের আগে কেন্দ্রে এসে নাগরিকদের দেয়া ভোট আগে গণনা করা হবে সেসব রাজ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

কারণ এক জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্প সমর্থকরা কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে আগ্রহী। আর যেসব রাজ্যে আগে পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে সেগুলোতে জো বাইডেন এগিয়ে থাকতে পারেন।

জো বাইডেনের বেশিরভাগ সমর্থক পোস্টাল ভোট দিতে আগ্রহী।