বাংলাদেশেও ভালবাসায় সিক্ত সৌমিত্র

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবাংলার অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর শুধু ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতেই নয় তার জন্যে শোক প্রকাশ হয়েছে বাংলাদেশেও।

বাংলাদেশি তারকা থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শক পর্যন্ত সবার ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি।

যদিও বাংলাদেশি কোন তারকার মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গে এতো মাতামাতি হয় না বললেই চলে। সেই তুলনায় উদারতার দিক দিয়ে বাংলাদেশিরা অনেক এগিয়ে আছে।

সৌমিত্র বাংলাদেশেও ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুতে ঢালিউড সুপাস্টার শাকিব খান ও জয়া আহসানের মতো তারকারাও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

ভাবুক বাঙালির নায়ক হিসেবেখ্যাত ভারতীয় এ অভিনেতার গত মাসে করোনা শনাক্ত হয়। দীর্ঘদিন কলকাতার একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৫ বছর বয়সে রোববার মারা যান তিনি।

শাকিব খান তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, ‘যেখানে থাকেন, যেভাবেই থাকেন, আপনি আমাদের হৃদয়েই থাকবেন। বিদায় হে বরেণ্য!’

আরেক বাংলাদেশি সুপারস্টার আরেফিন শুভও শোক প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘ভালো থাকবেন পুরনো বন্ধুদের সাথে, বেলা শেষে দেখা হবে।’

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ উভয় দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান এক আবেগময় পোস্ট দিয়েছেন, তাতে তিনি লিখেছেন, পর্দায় তিনি যখন অভিনয়ের গরিমা ঝেড়ে ফেলে চরিত্রের আচরণ ফুটিয়ে তুলেছিলেন, ভারতবর্ষের শিল্পভুবনে সেটা শুধু বিস্ময়কর একটা ঘটনাই ছিল না, ছিল এক নতুন যুগের শুরু।

জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীও ভারতীয় অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখেন, ‘অবনত শ্রদ্ধা। হে কিংবদন্তী অভিনেতা…সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।’

আরেক জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেতা ও মডেল জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ফেসবুক পেইজে এক ছবি পোস্ট করে এর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘এক যুগের সমাপ্তি। তার আত্মার শাশ্বত শান্তি হোক।’

তার এক অভিনব সংলাপের উদ্ধৃতি দিয়ে, অভিনেত্রী এবং মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ঔশী এক টুইট করেছেন। তাতে লিখেছেন, ‘সবাই নেমে গেলো পরের স্টেশনে, আমি চললেম একা #অপূরনীয় ক্ষতি।’

চলচ্চিত্র পরিচালক ফখরুল আরেফেন খান নিয়ে লিখেছেন কিংবদন্তি ভারতীয় অভিনেতা সম্পর্কে আমি একটি তথ্য জানাতে চাই, যারা তার সম্পর্কে বেশি কিছু জানেন না, তিনি আমাদের দেশের ছেলে।

তার গ্রামের নাম ছিল কেয়া, হরিরামপুর থানা, কুষ্টিয়া। তিনি ছিলেন বাঙালি ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবী নেতা বাঘা যতীনের (পিতৃ) নাতি।

১৩ বছর বয়সে তিনি কুষ্টিয়া ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে যান। আর এখন বিশ্বজুড়ে তিনি আমাদের স্মৃতিতে নায়ক হয়ে রয়েছেন।